মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা পুনরুদ্ধারে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে দেশটির জান্তা বাহিনী। এতে বহুদিন পর সীমান্ত এলাকায় বোমা-মর্টারশেলের শব্দে কক্সবাজারের টেকনাফে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আতঙ্কে বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় পর থেকে বোমা ও মর্টারশেল নিক্ষেপের বিকট শব্দ শোনা যায়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিজিবির চৌকস সৈনিকদের নিয়ে আমরা সীমান্তে অবস্থান করছি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি জানান।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধ চলমান রয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার খাইংখালী, পালংখালী, রহমতের বিল, আঞ্জুমান পাড়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, পৌরসভা, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় দিয়ে রাত ৯টা থেকে বোমা ও মর্টার হামলার শব্দে কেঁপে ওঠে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের বাড়িঘর।
হ্নীলা এলাকার মাস্টার কামাল জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় পর পর ৪টি বিকট শব্দ কেঁপে উঠে বাড়িঘর। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ভয়ে চিৎকার-কান্না করে দেয়।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, মিয়ানমার থেকে অনেক দিন পরে বোমার এমন শব্দ কোনো দিন শুনিনি। মনে হয় বাংলাদেশ সীমান্তে এসে সব মর্টারশেল পড়ছে। সীমান্তের একদম পাশে আমার বাড়ি। এত বিকট শব্দে আমার বাড়ি যেভাবে কেঁপে ওঠে তা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারছি না।
গত বছরের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত কেঁপে ওঠে। দীর্ঘ বিরতির পর আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইনে আবারো সামরিক হামলা শুরু করেছে দেশটির জান্তা বাহিনী।
বিডি-প্রতিদিন/বিএম