বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিওতে ‘আমার বন্ধু মহা জাদু জানে’ গানটি ব্যবহৃত হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে প্রকাশিত ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে গানটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ এবং তাজিকিস্তানের পপশিল্পী মেহরনিগারি রুস্তম গানটির মূল কণ্ঠশিল্পী। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের ওই বিশেষ ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়, যা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের মেলবন্ধন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটির আবহে বাংলা গানের এই চমৎকার ফিউশনের কারণে নেটদুনিয়ায় এটি দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে। শুধু গান নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর সত্যি জাদুকরী একটি সিদ্ধান্ত। মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করে চীন সফরের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর শেষ করেছেন। এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়, বাংলাদেশের সমতার ভূরাজনীতির প্রথম পদক্ষেপ। এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কী পেল, কেন তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফরে গেলেন এসব হিসাব যারা এখনই কষছেন, তাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তিনি তাঁর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ ঘোষণা কীভাবে বাস্তবায়ন করছেন সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বর্তমান ভূরাজনীতি অতীতের সব সময়ের চেয়ে একটু ভিন্ন, একটু কৌশলী ও অনেকটা সাহসী। কোথায় কৌশলী হতে হবে আর কোথায় সাহসী হতে হবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চয় সেটা জানেন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর জাদুকরী সফর এবং সমতার ভূরাজনীতির সফলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে নতুন উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকবে এমনই প্রত্যাশা।
ভূরাজনীতি বা বিশ্বব্যবস্থা এখন ধীরে ধীরে বহুমেরুকেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা এখন বাস্তবতা। বৈশ্বিক নতুন রাজনীতির পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্বে প্রতিটি দেশকে নতুন করে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি সাজাতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেবল দ্বিপক্ষীয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারসাম্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন কোনো একটি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা একটি দেশের কৌশলগত স্বাধীনতাকে সীমিত করে দিতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের বহুমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগেরই প্রতিফলন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং ইসলামি বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত, যারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সফরের মাধ্যমে যদি শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক অর্জন হবে। তবে শ্রমবাজার নিয়ে এ নতুন সুযোগে আমাদের আরও প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠালে হবে না, দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে হবে। এজন্য যারা মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী, তাদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। যেসব সেক্টরে মালয়েশিয়া শ্রমশক্তি নেবে, সেসব সেক্টরে মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা যদি দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারি, তাহলে দেশ থেকে যারা কাজের জন্য বিদেশে যাবেন, তারা ভালো থাকবেন এবং বেশি অঙ্কে বৈদেশিক মুদ্রাও পাঠাতে পারবেন। তা না হলে যারা ঋণ করে বিদেশ যাওয়ার টাকা জোগাড় করেন, তাদের সেই ঋণ শোধ না হতেই ফেরত আসতে হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও দরিদ্র হবে। এজন্য শ্রমশক্তি বিদেশে পাঠানোর সব সিন্ডিকেট কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। শুধু শ্রমবাজার নয়, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সফল শিল্পোন্নত অর্থনীতি। প্রযুক্তি, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষায় দেশটির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের শিল্পায়ন আরও গতি পেতে পারে।
অন্যদিকে চীন বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, সেতু, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এই বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের প্রতিযোগিতা মূলত বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হলে বাংলাদেশে নতুন শিল্পকারখানা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যদি বিদেশি বিনিয়োগের একটি উপযুক্ত স্থান, গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে তাহলে রপ্তানি বহুমুখীকরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সে কারণে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এ সফরের গুরুত্ব অনেক বেশি।
বঙ্গোপসাগর এখন ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূকৌশলগত এলাকা। বিশ্বের বড় শক্তিগুলো এ অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অবিবেচনাপ্রসূত কোনো প্রতিযোগিতার অংশ না হয়ে, নিজের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে সেই বাস্তববাদী কূটনীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে, যার মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় সম্ভাবনা হলো আঞ্চলিক সংযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং যোগাযোগ সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক লজিস্টিক ও ট্রানজিট হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।
শুধু মালয়েশিয়া বা চীন নয়, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও তারেক রহমানের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখন নিরাপদ নতুন উৎপাদনস্থান খুঁজছে। বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তি, বড় বাজার ও ভৌগোলিক অবস্থান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয়। সফরের মাধ্যমে যদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। এ ছাড়া শিক্ষা, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন খাতেও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতের অর্থনীতি জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তাই এসব খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারি বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেটা হলো বর্তমান বিশ্বের সফল কূটনীতি কোনো একটি দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো নয়। বরং সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। বাংলাদেশ যদি চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সমানভাবে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশ সে পথেই হাঁটছে বলে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে। কারণ তারেক রহমানের প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে কখনো কৌশলী, কখনো উদার, আবার কখনো সাহসী পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। এ সফরকে তাই কেবল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সফল কূটনীতির প্রকৃত মূল্যায়ন অবশ্য হবে সফর-পরবর্তী সময়ে কত বিনিয়োগ এসেছে, কতগুলো সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়েছে, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের মানুষ কতটা উপকৃত হয়েছে তার ওপর।
বর্তমান ভূরাজনীতির জটিল বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগানো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর যদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে বাস্তব অগ্রগতি এনে দেয়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় এমন বাস্তববাদী, অর্থনীতিকেন্দ্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে আনা একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে প্রস্তাবটি উত্থাপনের সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেছেন। জবাবে সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। আমি যে কাজটি করার চেষ্টা করেছি আমার অবস্থান থেকে, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলা এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। যদি ভালো কিছু অর্জন হয় এটি বাংলাদেশের অর্জন। এ সফরে দেশের মানুষের কোনো অর্জন হলে সেটি দেশের মানুষের অর্জন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের অর্জনকে বাংলাদেশের ও দেশের মানুষের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বক্তব্যে তিনি তাঁর বিনয় প্রকাশ করেছেন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা বলেছেন। এখন লক্ষ রাখতে হবে, তাঁর এ সফরের সাফল্য যেন আমরা ঘরে তুলতে পারি। কোনো বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রে অথবা অদক্ষতায় যদি আমরা দেশের স্বার্থ, মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হই, তাহলে দুঃখ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।
♦ লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন