চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তীব্র গরমের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ইউরোপ জুড়ে বয়ে যাওয়া সাম্প্রতিক দাবদাহে স্পেনে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার স্পেনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ‘কার্লোস ৩ হেলথ ইনস্টিটিউট’ জানিয়েছে, এই দাবদাহে অন্তত ১০২৮ জন মানুষ তাপ-সম্পর্কিত জটিলতায় মারা গেছেন।
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘এইমেট’ এর তথ্য অনুযায়ী, এই মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৫ সালের জুনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সেসময় দেশটিতে তাপদাহে ৪০৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল সাল থেকে আবহাওয়ার রেকর্ড রাখা শুরুর পর জুন মাস ছিল স্পেনের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ‘এইমেট’ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস ছিল স্পেনের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ মাস। যেখানে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
সংস্থাটি এক্স-এ আরও উল্লেখ করে, ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সাতটি প্রথম ষান্মাসিক (বছরের প্রথম ছয় মাস) গত ১০ বছরের মধ্যেই দেখা গেছে।
আবহাওয়া সংস্থার মতে, ২০২৬ সালের জুন মাসটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ জুন হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। যেখানে ‘গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি’ ছিল।
বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ জানিয়েছে, জুনের শেষভাগ থেকে ইউরোপ জুড়ে যে তীব্র দাবদাহ শুরু হয়েছিল, তা মহাদেশটির ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে মারাত্মক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া জুন মাসে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া ‘কার্যত অসম্ভব’ ছিল।
এই দাবদাহে জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য এবং সুইজারল্যান্ডেও জুন মাসের পূর্ববর্তী সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
সূত্র: ফ্রান্স২৪
বিডি-প্রতিদিন/বিএম