কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি পানি কমতে শুরু করলেও নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন নদীতীরে ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা।
একদিকে ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার, অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত হেক্টর কৃষিজমি।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে পানির বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। ফলে জেলার প্রধান চারটি নদ-নদী তীরবতী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ধরলা, দুধকুমার, তিস্তাা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া এলাকা।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোডে জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত পাঁচ দিনে আমাদের গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন। আমরা চাই স্থায়ী ব্যবস্থা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক আমাদের নজরে রয়েছে এবং ভাঙন মোকাবেলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।পানি আরো কমলে ভাঙনের নতুন তালিকা তৈরি করে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ৯ উপজেলার এসব নিমজ্জিত ফসল পানি দ্রæত নেমে গেলে আংশিক রক্ষা হতে পারে বলে জানান। তবে শাকসবজি,মরিচ,বীজতলা অনেক নষ্ট হয়ে
যেতে পারে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম