রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত নাগরিকদের স্মরণ করেছে ইতালি, জাপান ও ভারত। গতকাল রাজধানীর গুলশানে ইতালি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের স্মৃতিচারণা
করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে একটি নামফলকের সামনে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইতালির রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তৃতায় হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ১০ বছর উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লাকে উদ্ধৃত করেন। সার্জিও মাত্তারেল্লা বলেন, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে আরও শক্তিশালী হয়েছে সংহতির বোধ, মানুষের মধ্যে সংলাপের মূল্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে যৌথ অঙ্গীকার। সভ্যতার মূলনীতি রক্ষার জন্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন, যাতে নিরাপদ, উন্মুক্ত ও পারস্পরিক সংহতিতে গড়ে ওঠা সমাজ নির্মাণ করা যায়। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, নিহত ব্যক্তিরা এসেছিলেন বিভিন্ন পটভূমি থেকে। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ, মেধাবী ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা মানুষ ছিলেন। স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত ইতালি ও জাপানের নাগরিকদের পরিবারের সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূত আলবার্ট সিয়া, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, হামলাকারীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা-বিভাজন ছড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টায় বরং সংহতির বোধ, মানুষের মধ্যে সংলাপের মূল্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে যৌথ অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ যাতে আবার মাথাচাড়া না দেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সব সময় সজাগ থাকতে হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্মরণসভায় অংশ নিয়ে বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। এতে ২২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৯ জন ইতালির নাগরিক, সাতজন জাপানের নাগরিক, একজন ভারতের নাগরিক, পুলিশসহ তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক।