বিশ্বকাপ ফুটবলে কে চ্যাম্পিয়ন হবে তা বলা কঠিন। তবে কেউ কেউ সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী তালিকায় দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছেন। আসলেও মেসি ও এমবাপ্পেরা দারুণ খেলছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হোঁচট না খেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ তালিকায় মেক্সিকোও রয়েছে। তবে ফাইনাল দৌড় পর্যন্ত যেতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে। এখানে আবার প্রশ্ন উঠতে পারে আর্জেন্টিনা তো এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বে নামেনি।
তাহলে তাদের কেন সম্ভাব্য শিরোপার তালিকায় রাখা হচ্ছে? ফুটবল অবশ্যই অঘটনের খেলা। এবারও বিশ্বকাপে তার দেখা মিলছে। বাস্তবতা হচ্ছে আর্জেন্টিনার যে পারফরম্যান্স তাতে ধরেই নেওয়া হচ্ছে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে মেসিরা সামনে এগিয়ে যাবেন।
আসি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে। এ ক্ষেত্রে আমি মেসি ও এমবাপ্পেকে এগিয়ে রাখব। দুজনই ছয়টি করে গোল করেছেন বলে বিষয়টি তো আছেই। সব মিলিয়ে তাদের মধ্য থেকে যে কেউ সেরা খেলোয়াড় বা সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেন। এমবাপ্পের কথা আলাদাভাবে বলা যায়। লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে সন্দিহান ছিলাম এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের নামের সুবিচার করতে পারবেন কি না। এখন তো দেখছি আগের বিশ্বকাপের চেয়ে তিনি আরও দুর্বার ও ভয়ংকর। নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও চার ম্যাচেই নিজের সেরাটা দিয়েছেন এমবাপ্পে।
মেসি নিঃসন্দেহে ভালো খেলছেন। তারপরও আমি বলব এমবাপ্পের নৈপুণ্য আলাদাভাবে নজর কাড়ছে। এমন নয় যে, ফ্রান্স এমবাপ্পের ওপর নির্ভর। পুরো দলই দক্ষতার স্বাক্ষর রাখলেও এমবাপ্পের হিংস্র রূপ দেখে মনে হচ্ছে তিনি হারানো কাপ উদ্ধার করে ছাড়বেন। জানি না ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে। তারপরও বলব এমবাপ্পের তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে সেরা খেলাটাই খেলছেন। নিজে খেলছেন আবার সতীর্থদেরও খেলাচ্ছেন। সুইডেনের বিপক্ষে তাঁর জোড়া গোলে কোনটি সেরা এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তর্কও হতে পারে। প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে হল্যান্ডও আলো ছড়াচ্ছেন। ফোকাসটা কিন্তু এমবাপ্পে আর মেসির দিকে। বড় অঘটন না ঘটলে এবারও তাদের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা দেখছি।
এবার আসি আরও দুই গ্রেটের প্রসঙ্গে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আরেকজন লুকা মডরিচ। পরিতাপের বিষয়, তাদের যে কেউ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ খেলাটি খেলতে পারেন। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া শেষ বত্রিশে নকআউট পর্বের ম্যাচে লড়বে। স্বাভাবিকভাবে এক দলকে বিদায় নিতে হবে। এখানেই পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে রোনালদো কিংবা মডরিচের বিশ্বকাপের। দুজনার যে বয়স তাতে তো ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব না। দেখা যাক এবার বিশ্বকাপে সামনে আরও ম্যাচ খেলবেন কে, রোনালদো না মডরিচ?