কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খাল থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের এক ‘লোমহর্ষক’ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, থানায় লিখিত অভিযোগ করায় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ লুকিয়ে ফেলে তার নিজের পরিবার।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত আব্দুল কাদেরের (২৩) মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত বাবা, মা ও ছোট ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের লিটন (৪৮), তার স্ত্রী কাজল বেগম (৪২) ও তাদের ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০)।
পুলিশ জানায়, আব্দুল কাদের তার বাবা, মা ও ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার চারদিন পর গত সোমবার সকালে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় এলাকার একটি খাল থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের মা কাজল বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে কাজল বেগমের দেওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্তরা ফেনী জেলার সদর উপজেলার সাদাবপুর রেলগেট এলাকায় ভবঘুরের ছদ্মবেশে অবস্থান করছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আব্দুল কাদেরের হাত-পা বেঁধে তাকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহ পুকুর থেকে তুলে রান্নাঘরের মেঝের নিচে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, তিনদিন পর মরদেহে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সোমবার মধ্যরাতের পর অটোরিকশাযোগে কুরকুটা এলাকা থেকে পদুয়ারপাড় এলাকার রাস্তার পাশের একটি খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান আছে।
বিডি-প্রতিদিন/এমই