ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুইশাকের বীজ, যা স্থানীয়ভাবে ‘পুইফল’ নামে পরিচিত। কম উৎপাদন খরচ, ভালো ফলন এবং বাজারে চড়া দামের কারণে কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে পুইফল। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক চাষ।
সাগান্না ইউনিয়নের সাগান্না গ্রামের মাঠে দেখা গেছে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুইফল, যাকে স্থানীয়রা পুইশাকের মেচড়ি নামেও চেনেন। ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ ফসলের আবাদ। মাত্র পাঁচ মাসে ফলন পাওয়া যায় বলে স্বল্প সময়েই ভালো আয় করতে পারছেন কৃষকরা। শুধু সাগান্না নয়, বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে এখন চোখে পড়ে পুইফলের সবুজ রাজ্য।
এসব এলাকার কৃষক হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুনসহ একাধিক কৃষক জানান, গত কয়েক বছরে বাজারে পুইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক ঝুঁকছেন এই লাভজনক চাষে। লাভজনক হওয়ায় শুধু পুরুষ নন, একাধিক নারী উদ্যোক্তাও পুইফল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুইফলের আবাদ হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং পরিচর্যাসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে সেই খরচের তুলনায় অনেক বেশি আয় হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভও অনেক বেশি। এ কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পুইফল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকে।
কৃষকদের আশা, বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে আরও বেশি কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, পুইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে। ভালো ফলন হলে প্রতিবিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। এটি লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন কৃষক এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুইফলের ক্ষেতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও বেশি। ফলে কৃষিকাজের মাধ্যমে নারীরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই