বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টাইব্রেকারে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের পর আরও একবার আলোচনায় এসেছে অঘটনের শঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরকে সতর্ক করেছেন প্রধান কোচ থমাস টুখেল। তার স্পষ্ট বার্তা, নাম, র্যাঙ্কিং বা খ্যাতি নয়—মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের মার্সেডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচটি।
ইংল্যান্ড কোচ টুখেলের মতে, চলতি বিশ্বকাপ বারবার প্রমাণ করছে যে ফেভারিট ও আন্ডারডগের ব্যবধান আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। তিনি বলেন, বড় দলগুলোকে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন লড়াই করতে হচ্ছে, আর ছোট দলগুলো শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনায় এখন অনেক বেশি সংগঠিত।
ক্যানাডা-দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মরক্কোর নাটকীয় জয়-ড্রয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,‘প্রতিটি ম্যাচই এখন কঠিন। ব্যবধান খুবই সামান্য, তাই আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।’
ইংল্যান্ড কোচ আরও জানান, ডিআর কঙ্গোর মতো দলগুলো এখন ভয়ের প্রতিপক্ষ। তারা সংগঠিতভাবে রক্ষণ সামলায় এবং কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক। ফেভারিট হিসেবে খেললে চাপও বেশি থাকে।
তবে চাপের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড। টুখেলের ভাষায়, আমাদের শান্ত থাকতে হবে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে এবং পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে। র্যাঙ্কিং নয়, মাঠের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছেন ডিআর কঙ্গো কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। তিনি বলেন,‘আমাদের হারানোর কিছু নেই, সেটাই আমাদের শক্তি। চাপ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের উপর।’
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো ইতিমধ্যেই গ্রুপ পর্বে নজর কাড়লেও কোচ মনে করেন, তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। তবে এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আরও বড় কিছু করার সুযোগ দেখছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন,‘ইংল্যান্ড র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে, কিন্তু আমরা দেখিয়েছি বড় দলের বিপক্ষেও লড়াই করা সম্ভব।’
ম্যাচের আগে ইনজুরির ধাক্কা খেয়েছে ইংল্যান্ড শিবির। চোটের কারণে রিস জেমস ও জ্যারেল কোয়ানসা ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। দুজনই যথাক্রমে হ্যামস্ট্রিং ও গোড়ালির সমস্যায় ভুগছেন।
নকআউটের আগে এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠছে আরও চ্যালেঞ্জিং। আন্ডারডগ কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে এগোতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
বিডি প্রতিদিন/এম.এস