পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রকৃত অর্থেই নতুন ঢাকা হবে। যেখানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস, তিনটি উপকমিশনার (ডিসি) কার্যালয় এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলছে। গতকাল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে। পূর্বাচলকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ডিএমপির মোট চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের জন্য সরকার কর্তৃক নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানাগুলো ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। পুলিশপ্রধান বলেন, আগামীতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে নিয়ে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বাচলে রাজউকের মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন পূর্বাচলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার পরিচয় বহন করে। এর মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার আয়তন ও কলেবর যেমন বাড়বে তেমনই নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও একটি সুসংগঠিত কাঠামো পাবে, ফলে নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। আইজিপি বলেন, পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এ প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।
পুলিশের অবস্থান ও তৎপরতা জনমনে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা তৈরি করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হবে। তার একটি বরকাউ পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প, ১ নম্বর সেক্টরে; যেটি উদ্বোধন করা হলো।