লিওনেল মেসি মাঠে নামছেন, গোল করছেন এবং রেকর্ড গড়ছেন। সাতবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি একাই আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন কাতার বিশ্বকাপে। এবারও আলবিসেলেস্তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে মরিয়া মেসি। পিছিয়ে নেই কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পেও ছুটছেন রকেট গতিতে। বিশ্বকাপে খেলছেন রোবোটিক ফুটবল, কম্পিউটার ফুটবলার। তার গতি, পাওয়ার ও ফিনিশ দেখে মনে হচ্ছে, তার হার্ডডিস্কে আগে থেকেই ম্যাচের পরিকল্পনা, তথ্য প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেই নির্দেশনা মেনে ফুটবল খেলছেন, গোল করছেন এবং রেকর্ডস গড়ছেন। চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব পর্যন্ত তিনি গোল করেছেন ছয়টি। সহায়তা করেছেন দুটি। কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। এবারও রেসে রয়েছেন সবার আগে। মেসি ৬ গোল করলেও সহায়তা করেননি একটিও। এমবাপ্পে গতকাল সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। এর আগে গ্রুপ পর্বে জোড়া গোল করেছেন ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ১৮টি। তার চেয়ে একটি বেশি নিয়ে ১৯ গোল করেছেন মেসি। তার পেছনে জার্মানির মিরোশ্লাভ ক্লোসা ১৬ ও ব্রাজিলের রোনাল্ডো ১৫টি। মেসি ১৯ গোল করেছেন ২৯ ম্যাচে। এমবাপ্পে ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল, ক্লোসা ১৬ গোল ২৪ ম্যাচে এবং রোনাল্ডো ১৫ গোল করেন ১৯ ম্যাচে। এমবাপ্পে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে ৪টি, ২০২২ সালে ৮টি এবং চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত গোল করেছেন ৬টি। তার বয়স ২৭ বছর। মেসির বয়স ৪০। যদি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সমান বয়স পর্যন্ত খেলেন, তাহলে আরও ৩টি বিশ্বকাপ খেলবেন। ম্যাচ প্রতি তার গোলের স্ট্রাইকরেট যা, তাতে কোথায় থামবেন, সেটা সময় বলবে। সুইডেনের বিপক্ষে ‘রাউন্ড অব থার্টি টু’ ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি গড়েছেন নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। বিশ্বকাপের নকআউটে এত দিন পর্যন্ত ৯টি করে গোল ছিল ব্রাজিলের লিওনিদাস ও রোনাল্ডোর। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে এ নজির গড়েছিলেন। রোনাল্ডো গড়েন ২০০৬ সালে। এই কীর্তির ধারে-কাছে নেই মেসি, ক্লোসা।
এমবাপ্পে ২০১৮ সালে নকআউটে গোল করেছিলেন ৩টি। সেরা-১-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২টি ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি গোল করেন। ২০২২ সালে আরও ৫ গোল করেন। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ২টি ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এবার ২টি করেছেন সুইডেনের বিপক্ষে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচ রয়েছে, হয়তো আরও গোল করবেন।