ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে অব্যাহতি পেয়েছে শাইনপুকুর সিরামিকস। শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে সোনালী ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঋণ সুবিধার কারণে ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
শাইনপুকুর সিরামিকস বেক্সিমকো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান এবং পুরো গ্রুপটি বর্তমানে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। এতে প্রতিষ্ঠানটি এলসি খুলতে পারছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের অধীনে বিশেষ অব্যাহতি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এ সুবিধা অনুমোদন করেছে। এ সুবিধা প্রদানের জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানটি নির্দিষ্টভাবে শিথিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ঋণ সুবিধার কারণে ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এ অনুমোদনের ফলে সৃষ্ট কোনো দায়-দায়িত্ব অর্থ বিভাগের ওপর বর্তাবে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে শাইনপুকুর সিরামিকসের এলসি খোলায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপির অনুকূলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের ঋণ সুবিধা দিতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শাইনপুকুর সিরামিকস বেক্সিমকো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় অব্যাহতি দিয়েছে, যার ফলে শাইনপুকুর সিরামিকস সোনালী ব্যাংকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের বিপরীতে এলসি খুলতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পর বিষয়টি বিবেচনা করেছে মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, এ ঋণ সুবিধার কারণে অর্থ বিভাগের কোনো দায়দায়িত্ব সৃষ্টি হবে না এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক পিএলসি সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারবে না। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের সব আয় একটি নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে সোনালী ব্যাংকের পাওনা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে হবে।
শাইনপুকুর সিরামিকসের নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, বেক্সিমকো ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নয়। ২০২৫ সালেও আমরা খেলাপি ছিলাম না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়।’