আগামীকাল ৩ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে এফডিসির আঙিনা এখন নির্বাচনি উত্তাপ আর আলোচনা-সমালোচনায় মুখর। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মূলত দুটি প্যানেল। একটি প্যানেলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। অন্যটি হচ্ছে আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তির প্যানেল। এ ছাড়া ১০ জনের বেশি শিল্পী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা করেছেন। শিল্পী সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ৬১০ হলেও ভোটার তালিকায় রয়েছেন ৫৭৩ জন সদস্য। এদের মধ্যে শুধু ৭৩ জনের হাতে কাজ আছে কি না সন্দেহ। কিন্তু নির্বাচন করতে সবাই মরিয়া। কী আছে সমিতির চেয়ারে। কেন এ চেয়ারটি এত লোভনীয়। একসময় নায়িকা নিপুণ ভোটে হেরেও আদালতের নির্দেশের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোরপূর্বক নির্বাহী কমিটির পূর্ণ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারটি নিজের দখলে রেখেছিলেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, পরের মেয়াদেও নির্বাচনে ডিপজলের কাছে হেরে গিয়ে ফল মেনে নেওয়ার পর আবার চেয়ারটি দখলের পাঁয়তারা করেন। কিন্তু ডিপজলের কঠোর অবস্থানের কারণে নিপুণের দখলবাজি তখন আর ধোপে টেকেনি।
চলচ্চিত্রবোদ্ধারা বলছেন, যারা প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অভিনয় করে আসছেন তাদের সমিতির কর্মকাণ্ড বা নির্বাচনে স্থান দেওয়া হয় না, অথবা প্রকৃত শিল্পীরা অশিল্পীদের তাণ্ডবে মানসম্মান বাঁচাতে নির্বাচন ও সমিতি থেকে দূরে সরেন। কয়েক বছর ধরে যারা নির্বাচন করেন তাদের অধিকাংশের হাতে কোনো কাজ নেই, কত বছর আগে কাজ করেছেন তাও তারা জানেন না। নামমাত্র কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করে কীভাবে তারা সমিতির সদস্য হন, কীভাবে আবার নির্বাচনেও অংশ নেন। কোন গ্রেডের শিল্পী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, এসব নানা প্রশ্ন এখন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মনে অনেক বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ সমিতির গঠনতন্ত্রেই কয়টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কেউ সদস্য হতে পারবেন এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এসব কিছুর তোয়াক্কা না করে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার সমিতি হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। যারা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসেন বরাবরই তারা পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজের বা নিজের প্রিয় প্রার্থীর ভোটব্যাংক বাড়াতে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে সদস্যপদ দিয়ে যাচ্ছেন বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সমিতি এত লোভনীয় কেন? এবারের নির্বাচন ঘিরে আবারও গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সদস্যপদ দেওয়ার জোর অভিযোগ উঠেছে। শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৫ (ক) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, পূর্ণ সদস্য হতে হলে একজন শিল্পীকে কমপক্ষে পাঁচটি মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অবিতর্কিত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে হবে।
পাশাপাশি আবেদনকারীকে পেশাগতভাবে চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী হতে হবে। কার্যকরী পরিষদ আবেদন অনুমোদন করলে তিনি পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করবেন এবং ভোটাধিকারসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন। কিন্তু এ বিষয়ে সমিতির গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উপেক্ষা করে সমিতি ৪০ জনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এবার জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরমান স্বাক্ষরিত নতুন সদস্যদের তালিকা ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অধিকাংশরা। গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক উঠেছে তুসমি তায়েফ টুনটুনিকে নিয়ে। অভিনয়শিল্পী ডি এ তায়েবের মেয়ে টুনটুনি এখনো শিশুশিল্পী হিসেবেই পরিচিত। তার মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র মাত্র দুটি-‘সোনাবন্ধু’ ও ‘আমার মা’। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘কিশোরী’ ও ‘দোলন আমার দোলন’। গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত পাঁচটি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের শর্ত পূরণ করতে না পারলেও সে পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছে। এ বিষয়ে ডি এ তায়েব বলেন, ‘একটা সিনেমায় অভিনয় করেও শুধু টুনটুনি নয়, আরও অনেকেই সদস্য হয়েছে। এমন প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে আমার মেয়েকে সদস্য করাতে চাইনি।’ একইভাবে পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস সানজানা। অথচ তাঁর অভিনীত কোনো চলচ্চিত্র এখনো মুক্তি পায়নি। কয়েকটি ছবিতে কাজ করছেন বলে জানা গেলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। চিত্রনায়িকা রোমানা নীড়ও নতুন সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন। তাঁর অভিনীত ‘ভালোবাসলে দোষ কী’ এবং ‘উতলা মন’ মুক্তি পেয়েছে। ‘আড়ং’ ও ‘ভালোবাসি কত বুঝাব কেমনে’ ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পাঁচটি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শর্ত পূরণ করেননি। নীড় শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জয় চৌধুরীর স্ত্রী। চিত্রনায়িকা সুস্মি রহমান ২০১৮ সালে ‘আসমানী’ চলচ্চিত্র দিয়ে বড়পর্দায় আসেন। পরে মুক্তি পায় ‘দায়মুক্তি’ ও ‘ময়নার চর’। বর্তমানে তাঁর নতুন কোনো চলচ্চিত্রের শুটিং বা মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবু তিনি পূর্ণ সদস্য হয়েছেন। দুই বছর আগে চলচ্চিত্রে অভিষেক হওয়া মুন্না খানের মুক্তিপ্রাপ্ত কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’, ওয়েব ফিল্ম ‘দ্য পাওয়ার অব লাভ’ এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘তছনছ’। আরও দুটি চলচ্চিত্র নির্মীয়মাণ। কিন্তু গঠনতন্ত্রে সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে ‘মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ পাঁচটির কথা বলা হয়েছে। মনির হোসেন ওরফে যুবরাজ অভিনীত ‘হৃদয়ে ৭১’, ‘হৃদয় জুড়ে’ ও ‘আব্বাস’ মুক্তি পেয়েছে। তাঁর আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা এখনো পাঁচে পৌঁছায়নি। এর বাইরে আরও কয়েকজনের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার ব্যাপারেও নিয়ম না মানার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি মিশা সওদাগরের বক্তব্য হলো, ‘সমিতির কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত, এখন তো সে অর্থে আগের মতো ছবি তৈরি হচ্ছে না। তাই কমপক্ষে দুটা কিংবা তিনটা ছবি হলেও পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার বিবেচনা করা হয়েছে। কার্যকরী পরিষদ যা বলবে তাই হবে, সেটাকে কোনো চ্যালেঞ্জ করা যায় না। তবে দুটি কিংবা তিনটি ছবিতে অভিনয় করে সদস্যপদ পেয়েছে, এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগে এ ধরনের অনিয়ম অনেক ঘটেছে। আমাদের কার্যকরী পরিষদের সভায় এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই আমাদের কার্যকরী পরিষদ সবার সিদ্ধান্তে মৌখিকভাবে শর্ত শিথিল করে এসব পূর্ণ সদস্যপদ দিয়েছে।’ এদিকে নির্বাচনের ঠিক আগে একসঙ্গে ৪০ জনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার ঘটনাকে কেবল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই। তাঁদের মতে, পূর্ণ সদস্যপদ মানেই ভোটাধিকার। ফলে নতুন ভোটার যুক্ত করার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে যাঁদের সদস্যপদ পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাঁদের অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই ভোটের হিসাবনিকাশের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাই এ সদস্যপদ প্রদানে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ বদলে দেওয়ার অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। গঠনতন্ত্রের ‘শর্ত লঙ্ঘন করে’ নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন ৪০ জনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ‘অনিয়মের অভিযোগ’ উঠেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বিরুদ্ধে। ‘গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে’ নতুন সদস্য পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সমিতির সদস্য এ বি এম সোহেল রশিদ বলেন, ‘শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাঁচটি সিনেমায় কাজ না করলে সদস্য পদ দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু এবার এ নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রায় ৪০ জন নতুন সদস্য নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের সময়ে ৫০-৬০টি সিনেমা করার পর, দুই-তিন বছর চেষ্টা করে মেম্বার হতে হয়েছিল। আর এখন নিয়ম ভাঙার এ সংস্কৃতি চলছে।’
শিরোনাম
- কুড়িগ্রামে পানি কমলেও তীব্র নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি
- চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এই পর্যন্ত কী কাজে লেগেছে : মিষ্টি জান্নাত
- ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলার অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে
- ‘আমার শেখানোকে গুরুত্বই দেয়নি’, পদত্যাগের পর উরুগুয়ে কোচ
- শুধু জুনেই হতাহত ৩৮ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা: রুশ সামরিক বিশ্লেষক
- ১৭ বছর পর রায়; কলেজের মেট্রন হত্যায় দারোয়ানের যাবজ্জীবন
- রেকর্ড দাবদাহে স্পেনে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু
- ভারত সফরে গিয়ে মস্তিষ্কে ৩৮ পরজীবী নিয়ে ফিরলেন নারী, অতঃপর…
- ব্রাজিল ম্যাচে হালান্ডকে বিশ্রাম নিতে বললেন রদ্রিগো
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- থালাপাতি বিজয়ের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র!
- কুষ্টিয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন সেই যুবক নেপালের নাগরিক
- যানজটমুক্ত বগুড়া গড়তে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান শুরু
- রেকর্ড তাপমাত্রায় ফুটছে সমুদ্রের পানি, বড় বিপর্যয়ের সতর্কতা বিজ্ঞানীদের
- রাতে ইংল্যান্ড-কঙ্গো লড়াই, ফের কি ঘটবে বড় অঘটন?
- যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে ১০৫২ কোটি টাকার গম কিনবে সরকার
- গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে দুই কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
- রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা, জানলেন প্রধানমন্ত্রী
- নারায়ণগঞ্জে নাগরিক সেবার মান ও গতি বাড়াতে জেলা প্রশাসনের গণশুনানি
- রুশ বাহিনীকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন: রিপোর্ট
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন কাল
গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করেই নতুন ৪০ সদস্য, বিতর্ক
আলাউদ্দীন মাজিদ
প্রিন্ট ভার্সন
সর্বশেষ খবর