১৯৭৫ সালে ‘লাভ ইন শিমলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ছয় বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন। মাস্টার শিপলুর জন্ম ১৯৬৯ সালে, ঢাকার আজিমপুরে, একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে। তাঁর মামা ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির এবং তার খালাতো ভাই ছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু
১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাড়াজাগানো ‘আগুন’ সিনেমার ‘মাগো তোর কান্না আমি সইতে পারি না, দোহাই মা আমার লাইগা আর কাঁদিস না’ গানটির সেই শিশুশিল্পী ‘মুন্না’র কথা কি আমাদের মনে আছে? রুনা লায়লার গাওয়া, হৃদয়ছোঁয়া এ গানটিতে, সিনেমার পর্দায়, অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ ও নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে ‘মুন্না’র ভূমিকায় যার অনবদ্য অভিনয়, হাজার দর্শককে অশ্রুসিক্ত করেছিল; ছোট্ট বয়সে সেই ইতিহাস সৃষ্টি করা শিশুশিল্পী মাস্টার শিপলুকে আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। মাস্টার শিপলু ১৯৭৫ সালে ‘লাভ ইন শিমলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিশু শিল্পী হিসেবে মাত্র ছয় বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন। মাস্টার শিপলুর জন্ম ১৯৬৯ সালে ঢাকার আজিমপুরে, একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে। তার মামা ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির। তাঁর খালা ছিলেন বিটিভির জনপ্রিয় নাট্যকার বেগম মমতাজ হোসেন এবং তাঁর খালাতো ভাই ছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু।

‘আগুন’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে শর্মিলী আহমেদ ও মাস্টার শিপলু
মাস্টার শিপলুর আসল নাম জাভেদ মাহমুদ এবং ডাক নাম শিপলু। তাঁর বাবা আবদুল মান্নান ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং তাঁর মা ছিলেন ঢাকার অগ্রণী গার্লস স্কুলের একজন শিক্ষিকা।
সংস্কৃতিপ্রেমী পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি অভিনয়ে যুক্ত হয়ে পড়েন। তিনি বিটিভির শিশুদের নাটক ‘রোজ রোজ’-এ অভিনয় শুরু করেন। নাটকটি খুব জনপ্রিয় হয়। সে কারণে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথম সুযোগ আসে ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লাভ ইন শিমলা’ ছবিতে। ছবিটি খুব জনপ্রিয় হয়। প্রথম চলচ্চিত্রেই অসাধারণ অভিনয়ের জন্য মাস্টার শিপলু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান সেরা শিশুশিল্পী হিসেবে। এরপর ১৯৭৬ সালে, তিনি মোহসিন পরিচালিত ‘আগুন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এ ছবিতেও তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে। ছবিটি ব্লকবাস্টার হিট হয়। এরপর তিনি বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘সুজন সখী’-তে নায়ক ফারুকের শৈশব চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর শেষ চলচ্চিত্র ছিল শিশুতোষ ছবি ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, যেটি মুক্তি পায় ১৯৮০ সালে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি পড়াশোনার কারণে অভিনয়কে সম্পূর্ণভাবে বিদায় জানান। এরপর তিনি আর কোনো চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনে অভিনয় করেননি।

‘লাভ ইন শিমলা’ ছবিতে অভিনেত্রী কবরীর সঙ্গে
মাস্টার শিপলুর আরেকটি জনপ্রিয় কাজ ছিল বিটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘সকাল সন্ধ্যা’। তিনি ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রথম সিজনের অভিনয় বিভাগেও অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫/’৭৬ সালের সেই ছোট্ট ‘মুন্না’, মাস্টার শিপলু এখন অধ্যাপক ড. জাভেদ মাহমুদ। তিনি জাপান থেকে মেডিকেল সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ওষুধ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ক্যানসারের ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছেন।
এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের মেডিসিন স্কুলে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর স্ত্রীও একজন ক্যানসার গবেষক। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। কন্যা জয়িতা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডে অর্থনীতিতে অনার্স করছেন এবং ছেলে অনিন্দ এইট গ্রেডে (অষ্টম শ্রেণি) পড়ছে। ড. জাভেদ মাহমুদ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে বসবাস করছেন। তিনি বছরে একাধিকবার দেশে আসেন। দেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনোই বিচ্ছিন্ন হয়নি।