প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বছর এ বিষয়ে বিএআরআই এর থিম শ্লোগান "জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ সাফল্য।"
একজাতীয় গাছ না লাগিয়ে প্রকৃতিতে কার্যকর ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্র উদ্ভিদ, মসলা ও ঔষধি এবং ফলদ গাছের বিভিন্ন চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএআরআই’র মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির।
উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে ড. কাদির বলেন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টির ফলে কৃষকরা মধু ও মোম আহরণ করে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধাও লাভ করতে পারেন। এছাড়া একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে। অন্যদিকে এ উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলদ গাছ বৃদ্ধি পেয়ে মৌমাছির আদর্শ আবাসস্থল সমৃদ্ধ করবে। এতে মৌমাছিরা গাছ থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন (চড়ষষরহধঃরড়হ) নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফসল, বিশেষ করে ফল, সবজি, মসলা ও তেলবীজ পরাগায়নের জন্য মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। তাই গাছপালা বাড়লে মৌমাছির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ফসলের ফলন ২০% থেকে বহুগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক মসলা কেন্দ্র, গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহা: মাসুদুল হক ঝন্টু। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা উইং) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ উইং) ড. মো. মোশারফ হোসেন মোল্লা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় বিএআরআই এর উদ্যোগে সারাদেশের ছয়টি কেন্দ্র, আঞ্চলিক কেন্দ্র ও স্টেশনসহ বিভিন্ন উপ-কেন্দ্রসমূহ ও তার আওতাধীন এলাকায় পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সাড়ে সাত লাখ এবং সুচনা বছরে প্রায় ১.৩৩ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, মসলা ও ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ উৎপাদন, সংগ্রহ, বিতরণ, রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/এএম