চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আকাশচুম্বী ভবন সিটিক টাওয়ারে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তারা জানায়, বিমানটির ৬৬ বছর বয়সী পাইলট অতীতে আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই আসনের একটি সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা বিমান বিশ্বের অন্যতম কঠোর বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এড়িয়ে ১০৯ তলা ও ৫২৮ মিটার উঁচু সিটিক টাওয়ারে আঘাত হানে। এতে পাইলট নিহত হন এবং আরও ১৩ জন আহত হন। আহতদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চাওইয়াং জেলা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লিউ নামের ওই পাইলট শুক্রবার বিকেলে উত্তর পূর্ব বেইজিংয়ের একটি সাধারণ বিমানবন্দর থেকে প্রথমে একজন সঙ্গীকে নিয়ে উড্ডয়ন করেন। পরে একাই বিমান চালিয়ে নির্ধারিত ফ্লাইটপথ থেকে সরে যান। বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত সিটিক টাওয়ারে বিমানটি আঘাত করে।
২০২১ সালে পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া লিউ ছিলেন স্বনিযুক্ত, তালাকপ্রাপ্ত এবং একাকী জীবনযাপনকারী। তদন্তে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে একাধিকবার জীবন শেষ করার ইচ্ছার উল্লেখ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এমন কাজ করেছেন, যা জননিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করেছে।
দুর্ঘটনার সময় ভবন থেকে কাচের টুকরো এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচের সড়কে ছিটকে পড়ে। এতে সাপ্তাহিক ছুটির আগে অফিস ত্যাগ করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে ঘটনার পরপরই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ সংক্রান্ত ভিডিও এবং বিভিন্ন পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমও প্রথমদিকে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। পরে প্রায় এক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে চীনা কর্তৃপক্ষ।
সোর্স: সিএনএন
বিডি প্রতিদিন/আশিক