গাজীপুরের টঙ্গীতে এক ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলাটি দায়ের করেন ঝুট ব্যবসায়ী নূরজ্জামান জামাল। মামলায় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকার ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানার বাতিল কার্টন, পলিথিন, ড্রাম, পুরোনো লোহালক্কড়সহ বিভিন্ন মালামালের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন তিনি। কয়েক মাস ধরে নাজমুল হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি চক্র তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৮ জুন কারখানা থেকে বাতিল মালামাল পরিবহনের সময় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে কারখানার চারপাশে অবস্থান নেয় এবং ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় মালামাল গাড়িতে তুলতে বাধা দেওয়া হয় এবং শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার ও বুধবার দিবাগত রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মনোয়ার হোসেন (২৮), কাজী তৌহিদুল সজীব (৩৫), রনি খাঁ (৩৯), মো. রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়জিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), মো. রাসেল ওরফে খাবরী (২৮) এবং মো. সাগর ওরফে নয়ন (২০)।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মণ্ডল বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস