বন্যাপ্রবণ সাভারের চর এলাকা এবং গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল ঘেঁষা জনপদে কৃষি, পুষ্টি ও স্থানীয় সুশাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তনে কাজ করছে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় জলায়ু পরিবর্তনে জনগণকে পুষ্টি বিষয়ে তথ্য দিয়ে সচেতন করছে তরুণরা।
সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন এর কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। প্রকল্পের অধীনে সাভার উপজেলার ১২ জন প্রান্তিক ক্ষুদ্র চাষীকে আধুনিক, বন্যা-সহনশীল ও জিংক সমৃদ্ধ ‘ব্রি ধান-১০২’-এর বীজ এবং সুষম সার (ডিএপি, এমওপি ও গুটি ইউরিয়া) দেওয়া হয়। নদীর পানি বাড়ার আগেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় ১২টি প্রদর্শনী প্লটের মধ্যে ১০টির ফসল সফলভাবে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি আশুলিয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া, সাধুপাড়া ও শেওলাটেকি গ্রামের ১০টি চরম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার বসতবাড়ির অব্যবহৃত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছে। যেখানে প্রায় ১৫ ধরনের মৌসুমি সবজি চাষ হচ্ছে। ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ‘ফেরোমন ফাঁদ’।
অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি পরিবর্তন শুরু হয় তৃণমূল থেকে। সিএএলএল প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা প্রমাণ করেছে সঠিক প্রশিক্ষণ ও আস্থা পেলে তারা শুধু ফসলের মাঠ নয়, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনাও বদলে দিতে পারে।’ ২০২৬ সালের ৪ মার্চ জিএআইএন এর পক্ষ থেকে কৃষিবিদ ড. মো. মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দেন।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে সাভার ও গাজীপুর সদরের ১৬০ জনেরও বেশি তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক যাদের অর্ধেক নারী বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে জলবায়ু ও পুষ্টি বিষয়ে ১৬টি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন। সাভার, আশুলিয়া ও ইয়ারপুর ইউনিয়নে গঠিত ‘ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম’ এর মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট চূড়ান্ত হয়েছে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে পুষ্টি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এ অঞ্চলে ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি বাজেটে এই খাতগুলোর অন্তর্ভুক্তি এটিই প্রথম।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন