শনির ছোট একটি বরফে ঢাকা চাঁদ হলো এনসেলাডাস। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, এই ছোট চাঁদটি মহাকাশে বিশাল এক বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের জাল তৈরি করে। এটি শনির চারপাশের পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থার পাঠানো ‘ক্যাসিনি’ মহাকাশযানের ১৩ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই আবিষ্কার করা হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, এই চাঁদের পেছনে জালের মতো একটি তরঙ্গ ৫ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। চাঁদের নিজস্ব আকারের চেয়ে এটি দুই হাজার গুণেরও বেশি বড়।
চাঁদটির দক্ষিণ দিক থেকে তীব্র বেগে জলীয় বাষ্প ও ধুলো বের হয়। মহাকাশে গিয়ে এগুলো চার্জযুক্ত হয়ে শনির চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে মিশে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তরঙ্গগুলো অনেকটা তারের কম্পনের মতো চাঁদ থেকে শনির মেরু পর্যন্ত যাতায়াত করে। এই বিশেষ তরঙ্গকে বিজ্ঞানীরা ‘আলভ্যান উইংস’ বলছেন।
গবেষক দলের প্রধান লিনা হাদিদ বলেন, এনসেলাডাস তার পানির ফোয়ারার জন্য বিখ্যাত। কিন্তু মহাকাশে এর আসল প্রভাব এতদিন আমাদের অজানা ছিল। আরেক গবেষক থমাস চাস্ট জানান, ছোট একটি চাঁদ যে এত বিশাল এলাকাজুড়ে ঢেউ তৈরি করতে পারে, তা এবারই প্রথম দেখা গেল।
‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিক্স’ নামের একটি জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২০৪০ সালের দিকে নতুন মহাকাশ অভিযানে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে