Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৫

প্রকল্পের গাড়ি নৈরাজ্য

যথেচ্ছতার অবসান কাম্য

প্রকল্পের গাড়ি নৈরাজ্য

কোনো প্রকল্প সরকারিভাবে হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তাব্যক্তিদের জন্য গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্প শেষে গাড়ি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ নিয়ম না মানাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মন্ত্রণালয়গুলো যেসব গাড়ি কেনে, প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেশির ভাগ গাড়ির আর হদিস মেলে না। আইন অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব গাড়ি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো আইনের পরোয়া না করে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো গাড়িগুলো ব্যবহার করে। অনেকে আবার বছরের পর বছর ধরে পারিবারিক কাজেও ব্যবহার করছে প্রকল্পের গাড়ি। চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্প শেষে গাড়ি জমা না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেশ কয়েকটি অনুশাসন দেন। অনুশাসনে বলা হয়, প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে প্রকল্পের গাড়ি, অফিস ও অন্যান্য সরঞ্জাম যথাস্থানে জমা দিতে হবে। তবে ওই অনুশাসনের পরও প্রকল্পের গাড়ি জমা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়ি প্রকল্প শেষে হরিলুটের যে ঘটনা ঘটছে তা দুর্ভাগ্যজনক। এটি সুস্পষ্টভাবেই একটি বড় ধরনের দুর্নীতি এবং বছরের পর বছর ধরে সে দুর্নীতি নির্বিবাদেই চলে আসছে। এমনকি দুদকের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানোর পরও সম্বিত ফেরেনি। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়ি প্রকল্প শেষে পরিবহন পুলে ফেরত দেওয়ার নিয়ম যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘন সরকারি সংস্থাগুলোর শৃঙ্খলার তথৈবচ অবস্থাই স্পষ্ট করছে। সরকারি কোনো সম্পত্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়টি কর্তাব্যক্তিদের কারোর অজানা নয়। তার পরও বেওয়ারিশ সম্পত্তির মতো প্রকল্প শেষে প্রকল্পের গাড়ি অপদখলে রাখা এবং বেআইনিভাবে ব্যবহারের ঘটনা সরকারব্যবস্থার শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। সুশাসন ও সরকারের সব ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে যে যথেচ্ছতা চলছে তার অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

 


আপনার মন্তব্য