শিরোনাম
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

মশার উপদ্রব

ভোগান্তি কমানোর পদক্ষেপ নিন

এডিসের পর কিউলেক্স মশার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাজধানীর মানুষ। গত বছর এডিসের আগ্রাসন চলেছে ভয়ংকরভাবে। আক্রান্ত ও প্রাণহানির নতুন রেকর্ড হয়েছে। এডিস আতঙ্ক না কাটতেই কিউলেক্স মশার উপদ্রব শুরু হয়েছে নগরীজুড়ে। মশা নিধনের পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় দুই সিটি করপোরেশনের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী গত চার মাসে মশার ঘনত্ব চার গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মশার মধ্যে ৯৯% হচ্ছে কিউলেক্স। এ মশা সাধারণত পচা পানিতে হয়। নর্দমা, ড্রেন, ডোবা, বিলঝিলের পানি পচে যাওয়ায় পচা পানিতে জন্মাচ্ছে কিউলেক্স। সেই সঙ্গে শীতের শেষে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং পানি বহমান না থাকায় কিউলেক্স প্রজননের হার বেড়ে গেছে। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। যে কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রাকৃতিক নিয়মেই মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়। কিউলেক্সের কামড়ে অনেক সময় গোদ রোগ হয়।

এটি হলে হাত-পা ফুলে যায়। মশা মারতে বা তাড়াতে এর আগে কয়েল এবং অ্যারোসল স্প্রে করা হলে কাজ করত। তবে ইদানীং কয়েল বা অ্যারোসল স্প্রে করলেও মশা তাড়ানো যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো একটি কীটনাশক একটানা পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহার করা হলে মশা সেই কীটনাশকের বিপরীতে টিকে থাকার সহনশীলতা তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় ওই কীটনাশকের প্রতি সহনশীল হওয়ায় সেটি আর কাজ করে না। আর এজন্যই মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতি পাঁচ বছর পর পর কীটনাশক পরিবর্তন করা দরকার। কিন্তু এ ব্যাপারে দুই সিটি করপোরেশন কতটা সচেতন তা প্রশ্নাতীত নয়। মশা মারার ওষুধ পরিবর্তন দূরের কথা ওষুধ ছিটানো কার্যক্রমে চলছে শিথিলতা। অথচ বর্ষা মৌসুম বিদায় নেওয়ার পর মশা নিধনে জোরালো উদ্যোগ নিলে এডিসের পাশাপাশি কিউলেক্স মশার লার্ভাও ধ্বংস করা যেত। দেরিতে হলেও জনভোগান্তি কমাতে মশা নিধনে এখনই ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে নগরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা যেতে পারে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর