শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:১১

এক সন্ধ্যায় দুই নাটক

যেভাবে মঞ্চে ফিরবে দর্শক

পান্থ আফজাল

যেভাবে মঞ্চে ফিরবে দর্শক

ঢাকার মঞ্চ হলনির্ভর। নাটক প্রদর্শনীর জন্য শিল্পকলায় রয়েছে ৩টি, আর মহিলা সমিতিতে ১টি; যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বড় মঞ্চনাটকের দল মাসে মাত্র ১টি করে শো পেলেও মাঝারি দলগুলোর ৩ মাসে ১টি করে শো করার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে ছোট দলের সেই সুযোগ নেই বললেই চলে। আবার জ্যামবহুল ঢাকায় সঠিক সময়ে দর্শক শো দেখার সুযোগ পান না। তাই সময়, প্রযোজনা খরচ, দর্শক ও শো ডেটের বিষয় চিন্তা করে এখন ঢাকার দলগুলোর মধ্যে একদিনে ২টি করে প্রদর্শনীর রেওয়াজ চালু হয়েছে। নাট্যবোদ্ধারা অবশ্য এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। অনেক দল ভাগ্যক্রমে শুক্রবার হল পায়। তখন তারা ২টি করে শো করে। তবে এটাও ভাবার বিষয় থাকে নাটকের দৈর্ঘ্য কতটুকু! যেগুলো এক ঘণ্টার নাটক সেগুলোর ২টা করে শো হয়। তবে সব সময় এটা হয়েও ওঠে না। স্বল্প আয়োজনের নাটকগুলোই সাধারণত ২টি করে শো করে।

 

বেশ কিছু নাটকের ২টি শো

ঢাকার মঞ্চনাটক বহুদিন পর প্রাণ ফিরে পেয়েছিল ‘রিজওয়ান’ নাটকের প্রদর্শনী দিয়ে। ঈদের মধ্যেও টানা দশ দিনে দুটি করে প্রদর্শনীর পরও টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই। মঞ্চ নাটকের ক্ষেত্রে এটি একটি বিশাল ব্যাপার ছিল। অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদের পরিকল্পনা-নির্দেশনায় ‘রিজওয়ান’ মঞ্চে আনে নাটবাঙলা। এটির আনুমানিক ব্যাপ্তিকাল ছিল ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। কিছুদিন আগে চার দ্রৌপদীকে নিয়ে মঞ্চস্থ হয় ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের দুটি প্রদর্শনী বিকাল সাড়ে ৪টায় ও সন্ধ্যা সোয়া ৭টায়। নির্দেশনায় মাসুম রেজা। ‘দ্রৌপদী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিরিন খান মনি, নাজনীন হাসান চুমকি, বন্যা মির্জা ও সুষমা সরকার। দুটি প্রদর্শনীই দর্শকপূর্ণ ছিল। এর আগে ‘হৃত্মঞ্চ’র প্রযোজনায় মঞ্চে আসে ‘রুধির রঙ্গিনী’। রচনা ও নির্দেশনায় শুভাসিস সিনহা। অভিনয়ে রোকেয়া রফিক বেবী, আজাদ আবুল কালাম ও জ্যোতি সিনহা। দুটি করে প্রদর্শনী হয়। চলতি বছরে বাতিঘর নাট্যদল মঞ্চে নিয়ে আসে নতুন নাটক ‘র‌্যাডক্লিফ লাইন’। রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্তনীল। জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটারে এই নাটকটির ২টি করে প্রদর্শনী হয়েছে কয়েকবার। এটি বাতিঘরের ৮ম প্রযোজনা। অভিনয় করেছেন সাফিন আহমেদ অশ্রু, সরণ বিশ্বাস, শিশির সরকার, সঞ্জয় হালদার, তাজিম আহমেদ শাওন। আজাদ আবুল কালামের নির্দেশনায় প্রাচ্যনাট্যের ‘ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’। প্রতিবার ২টি করে প্রদর্শনী হয়। ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল গভীর রাতে সাভারের পলাশবাড়িতে ধসে পড়ে স্পেকট্রাম সোয়েটার অ্যান্ড নিটিং ফ্যাক্টরি। এই ঘটনাকে ‘ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি’ নাটকটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এদিকে সংস্কার নাট্যদলের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে ‘ভুল স্বর্গ’ ও ‘মহাপতঙ্গ’ নাটক দুটির  মঞ্চায়ন হয়। নাটক দুটির ব্যাপ্তি ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভুল স্বর্গ’ গল্পটিকে নব নাট্যরূপ দিয়েছেন অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক। আর আবু ইসহাকের গল্প থেকে নাটকটি লিখেছেন রুবাইয়াৎ আহমেদ। নির্দেশনা দিয়েছেন হাবিব মাসুদ। এ ছাড়াও অনেক নাটক পর পর ২ দিন ধরে হয়েছে। দর্শক বাড়াতে এই উদ্যোগ সবার কাছেও দারুণ প্রশংসনীয় হয়েছে। রামিজ রাজু ও সঙ্গীতা চৌধুরী অভিনীত ‘জবর আজব ভালোবাসা’ আগামী রবিবার পর পর ২ দিন হবে বলে জানা যায়। নাটকটি অনুবাদ করেছেন মোবারক হোসেন খান। রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফ সুমন। অন্যদিকে কিছুদিন আগে প্রাচ্যনাট তাদের ‘রাজা ও অন্যান্য’ নাটকটির প্রদর্শনী করে পরপর ২ দিন। অনেক দল একদিনে ২টি আর একটানা কয়েক দিন নাটক প্রদর্শন রেওয়াজ চালু করেছে।

 

মামুনুর রশীদ (আরণ্যক)

এক দিনে ২টি প্রদর্শনী অবশ্যই ভালো। এই উদ্যোগে দর্শক বাড়বে, মাসে ২টি করে শো করতে পারবে। আবার জ্যাম ঠেলে উত্তরা, ধানমন্ডি কিম্বা পল্লবী থেকে অনায়াসে ২য় শো যে কেউ দেখার সময় পাবেন। কলকাতায় তো শুক্রবারে ৩টি করে শো হয়। দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়। আগে তো আমরা মর্নিং শো করতাম। এখন তো এটা নেই। ছুটির দিনে অন্তত মর্নিং শো চালু করা উচিত। সে ক্ষেত্রে ৩ বার শো করা যাবে। আর হল সংকট তো আছেই আমাদের। গুলশান, উত্তরা, পল্লবী, ধানমন্ডিতে মঞ্চনাটক দেখার কোনো হল নেই। এই উদ্যোগ অন্তত হল সমস্যা উত্তরণে অনেক কাজে দেবে।

 

আজাদ আবুল কালাম (প্রাচ্যনাট)

একদিনে ২টি প্রদর্শনী ভালো উদ্যোগ। কারণ, বড় দল মাসে ১টি হল বরাদ্দ পায়। নাটকের এক দিনে ২টি করে প্রদর্শনী হলে সে মাসে ২টি করে অন্তত শো করতে পারবে। সংখ্যার দিক থেকে এটা অবশ্যই ভালো। এটার কারণে দর্শকও বাড়বে। ঢাকার জ্যাম, বাস্তবতা মিলিয়ে মঞ্চপ্রেমীরা ঠিক সময়ে শো দেখতে পারে না। ২টি প্রদর্শনী হলে প্রথম শো কেউ মিস করলেও পরের শো দেখতে পারবে। আর ১০টা বা ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মঞ্চনাটক দেখতে কোনো সমস্যা নেই। এটি ট্র্যাডিশনে চলে আসলে সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে। ঢাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনায়াসে যেকেউ পরের শো দেখতে পারবে। বাইরের দেশে তো এমন রেওয়াজ অনেক আগে থেকেই। আমি মনে করি, যেসব দলের ছোট নাটক আছে তারা এই সুযোগটা নিতে পারে।  

 

অনন্ত হীরা (প্রাঙ্গণে মোর)

ঢাকার হল সংকট আছে। যে পরিমাণ দল আছে, সেই পরিমাণ হল নেই। একটি প্রযোজনা করতে একটি দলের অনেক খরচ হয়। প্রদর্শনী সংখ্যা বাড়লে খরচটা কিছুটা উঠে আসে। আর ডেট তো পাওয়াই যায় না, পেলেও মাসে ১টি। যাদের নাটকের দৈর্ঘ্য ১ ঘণ্টার বা ৫০ মিনিটের তারা এক সন্ধ্যায় ২টি করে প্রদর্শনী অনায়াসে করতেই পারে। এটা আমার কাছে একটি পজেটিভ দিক। বাইরের দেশে কিন্তু ৩টি করে প্রদর্শনী হয়। দর্শক, জ্যাম, শো ডেট, সময় আর প্রযোজনা খরচের কথা চিন্তা করলে উদ্যোগটি অবশ্যই সমর্থনযোগ্য।


আপনার মন্তব্য