শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৯ ২২:৫৪

যেভাবে ঘুরে দাঁড়াবে চলচ্চিত্র

যেভাবে ঘুরে দাঁড়াবে চলচ্চিত্র
প্রযোজক সমিতি অকার্যকর থমকে আছে যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ, কলকাতার ছবি আমদানি ও প্রদর্শনে জটিলতা, ছবির অভাবে সিনেমা হল বন্ধ, সিনেমা হলে সরকারি প্রজেক্টর স্থাপনের অগ্রগতি  নেই। মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্য, এমন অনেক কারণে ঢাকাই ছবি এখন চরম দৈন্যদশার কবলে। কীভাবে ঢাকাই ছবির এই দুরবস্থা কাটিয়ে সুদিন ফেরানো যায়?
এ বিষয়ে চলচ্চিত্রকার ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতামত তুলে ধরেছেন-  আলাউদ্দীন মাজিদ

 

মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দূর করতে হবে

অনুপম হায়াৎ

[গবেষক, সাংবাদিক]

প্রযুক্তিগত, নির্মাণগত, প্রতিভাগত ও ঐক্যের সংকট শিল্পটিকে অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একসময় এই শিল্পে মধ্যস্বত্ব ভোগী বলে কোনো পক্ষ ছিল না। হঠাৎ করে এই পক্ষের উদ্ভবের কারণে প্রযোজককে প্রতি মুহূর্তে তাদের হাতে নাকাল হতে হচ্ছে। এমনিতেই চলচ্চিত্রের ব্যবসা মন্দা। এর ওপর যদি এই পক্ষ অযৌক্তিকভাবে প্রযোজকের কাছ থেকে বিশাল একটি টাকার অঙ্ক হাতিয়ে নেয় তাহলে প্রযোজককে পথে বসতেই হবে। নিয়ম হচ্ছে পণ্য উৎপাদনকারী সরাসরি তার পণ্য বাজারজাত করবে। এখানে তৃতীয় পক্ষের কী দরকার। এরা কাদের সৃষ্টি। চলচ্চিত্রের সব পক্ষ মিলে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

 

মানসম্মত ছবি নির্মাণ করতে হবে

ইফতেখার নওশাদ [সভাপতি, প্রদর্শক সমিতি]

সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে কনটেন্ট দরকার। যা পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। যেসব ছবি নির্মাণ হচ্ছে তাতে মানের অভাব রয়েছে। মাঝে মধ্যে দু-একটি ভালো ছবি দিয়ে সিনেমা হলের সারা বছরের খরচ তুলে আনা অসম্ভব। বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণে কলকাতার বাংলা ছবি এখানে দুই দেশে এক সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। এতে সিনেমা হলে দর্শক ফিরবে এবং তাহলেই সিনেমা হলের পরিবেশ ফেরাতে এবং সংস্কারে অর্থ ব্যয়ে সক্ষম হবে সিনেমা হল মালিকরা।

 

নির্দিষ্ট পরিমাণে ছবি আমদানি করতে হবে

সুদীপ্ত কুমার দাস

[প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা]

স্থানীয়ভাবে ছবি নির্মাণ কমেছে। চলচ্চিত্র বিনিময়ের ক্ষেত্রে নানা শর্ত আরোপে স্বাভাবিক আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। নতুন নীতিমালার অসঙ্গতির কারণে যৌথ প্রযোজনাও বন্ধ রয়েছে। সিনেমা হল উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিদেশি ছবি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে দুই দেশে এক সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে চলচ্চিত্র শিল্প।

 

সরকারি সিনেপ্লেক্সে নির্মাণ জরুরি

মিয়া আলাউদ্দীন [প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা]

 আগে ছবির অভাব পূরণ করতে হবে। আর ছবি হতে হবে মানসম্মত। সহজ শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদেশি ছবি আমদানি করতে দিতে হবে। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা আবার সবার চাহিদা অনুযায়ী প্রণয়ন করতে হবে। সিনেমা হল সংস্কারে শর্তহীন ঋণ দিতে হবে। নতুন সিনেমা হল নির্মাণে সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং সিনেমা হলের বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক নয়, শিল্পনীতির আওতায় নিতে হবে। সিনেমা হলে প্রজেক্টর স্থাপন, সংস্কার ও ৬৪ জেলায় সরকার ঘোষিত সিনেপ্লেক্স নির্মাণ অচিরেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

সিনেমা হল মালিকদের আন্তরিক হতে হবে

বদিউল আলম খোকন

[মহাসচিব, পরিচালক সমিতি]

আমি হতাশ নই। এখন মান সম্মত ছবি নির্মাণ হচ্ছে দর্শক তা সাদরে গ্রহণও করছে। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া আমার ‘অন্ধকার জগৎ’ ছবিটি। এটি দর্শক গ্রহণযোগ্যতার কারণে তৃতীয় সপ্তাহেও সফলভাবে চলছে। নির্মাতারা যদি মানের দিকে নজর দেন আর শিল্পীরা যদি অভিনয়ে মনোযোগ দেন তাহলে মানসম্মত ছবি অবশ্যই নির্মাণ ও ব্যবসা সফল হবে। আর এতে উৎসাহ পেয়ে এগিয়ে আসবে প্রযোজকরা। সিনেমা হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে। তারা যদি প্রদর্শনের স্থানটি উপযুক্ত করতে পারে তাহলে দর্শক স্বাচ্ছন্দ্যে সিনেমা হলে যাবে।

 

মিলেমিশে এগোতে হবে

মিশা সওদাগর [সভাপতি, শিল্পী সমিতি]

চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। সরকার যদি ৬৪ জেলায় প্রতিশ্রুত সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করে দেয় এবং দেশব্যাপী সিনেমা হল সংস্কারের উদ্যোগ নেয় তাহলে সমস্যার সমাধান বলে আর কিছু থাকবে না।  চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে মিলেমিশে  এগোতে হবে।

 

ইটিকিটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে

খোরশেদ আলম খসরু [সাবেক কর্মকর্তা, প্রযোজক সমিতি]

আগে সিনেমা হলের পরিবেশ আর আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার অনেক আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। এখন তা যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় ততই এই শিল্পের জন্য মঙ্গল। সিনেমাহলের টিকিট বিক্রিতে ফাঁকি রোধে ইটিকিটিং ব্যবস্থা অবশ্যই চালু করতে হবে। সরকারি প্রজেক্টর স্থাপনও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। চলচ্চিত্র নিয়ে আর কেউ যাতে মনোপুলি ব্যবসা করতে না পারে সে দিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। সিনেমা হলের পরিবর্তে সিনেপ্লেক্সের সংখ্যা          বাড়াতে হবে।


আপনার মন্তব্য