শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৫

উৎসবমুখর পরিবেশে শিল্পী সমিতির নির্বাচন

উৎসবমুখর পরিবেশে শিল্পী সমিতির নির্বাচন
ছবি : মহসিন আফাত

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) সকাল ৯টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া। এরপর একে একে ভোট দেন নায়ক আলমগীর, জায়েদ খান, মিশা সওদাগরসহ অনেকে। দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা জানাচ্ছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ 

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। নানা নিয়মের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে এই ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ভোটার স্লিপ ছাড়া ভোটারদের এবং নির্বাচন কমিশনের ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সকালে বৃষ্টির কারণে ভোটারের সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মোট ৪৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট গ্রহণ হয় ৩৮৬ জনের। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়াই করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও খলনায়ক মিশা সওদাগর। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরা। সহ-সভাপতির দুটি পদে প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল, রুবেল ও নানা শাহ। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আরমান ও সাংকো পাঞ্জা। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ইমন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়ছেন জাকির হোসেন ও ডন। এ ছাড়া কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- অঞ্জনা সুলতানা,  রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, বাপ্পারাজ, রঞ্জিতা, আসিফ  ইকবাল, আলেকজান্ডার বো,  জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব ও শামীম খান (চিকন আলী)।

এত পুলিশ এত নিরাপত্তা খুবই বিরক্তিকর : সোহেল রানা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সকাল ১০টার দিকে ভোট দিতে এফডিসিতে আসেন চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও প্রযোজক  সোহেল রানা। কিন্তু নির্বাচনী পাস না থাকায় তাকে এফডিসিতে ঢুকতে বাধা দেয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এফডিসির ভিতর থেকে ছুটে যান চলচ্চিত্রের অন্য শিল্পীরা। তারা গেট থেকে সোহেল রানাকে এফডিসির ভিতরে নিয়ে আসেন। সোহেল রানা বললেন, ‘এখানে চলচ্চিত্র শিল্পীদের কোনো নির্বাচন হচ্ছে? এটা হচ্ছে পুলিশের নির্বাচন। আমার অভিনয় জীবনে এমন বাজে নির্বাচন কখনো  দেখিনি। এফডিসিতে ঢুকতে আমার মতো সোহেল রানাকে কয়েক ধাপ বাধা পার করে আসতে হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পীদের নির্বাচনে এত পুলিশ পাহারা কেন থাকবে? আগে এফডিসির সব নির্বাচন হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। কিন্তু এবার মনে হয় পুলিশের ক্যাম্প।’

আজ আমার ঈদের দিন : মৌসুমী

‘পরিবেশ খুব ভালো। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে  ভোট দিতে আসছেন। প্রচার কাজে গিয়ে কষ্ট হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ভোটের দিনে মনে হচ্ছে, আজ ঈদ। ৩০ দিন রোজা রাখার পর ঈদ উদযাপন করছি। এই আনন্দ আরও বাড়বে, যদি আমি বিজয়ী হই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিরাপত্তা বিরাজ করছে। যার ফলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে।  শেষ পর্যন্ত  যেন এমন অবস্থা থাকে।’

এক প্যানেল এফডিসিকে জিম্মি করে রেখেছে : শাকিব খান

‘এফডিসি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এখানে সব শিল্পীর সমান অধিকার। জাতীয় নির্বাচনেও এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এফডিসিতে প্রবেশের নামে এ ধরনের হয়রানি ও হেনস্তা আমার কাম্য নয়। অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতি কখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার কেন হলো তা আমাকে ভাবিয়েছে। এফডিসিতে আজ নির্বাচনী উৎসবের পরিবর্তে গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বিরোধ নয়, সবাইকে শান্তির জন্য কাজ করতে হবে : ফেরদৌস

‘ভোট দিতে ভালো লাগছে। বেশি ভালো লাগছে এমন নিরাপত্তা দেখে। অনেকেই অবশ্য ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তবে আমি মনে করি নিজে সচেতন হলে এই ভোগান্তির শিকার হতে হতো না। আমি পকেটে করে আমার শিল্পীর পরিচয়পত্র নিয়ে এসেছি। এটা আনা আমার দায়িত্বও। জয়ী  যেই হোক আশা করব পরাজিত প্রার্থী তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবেন। সেই সঙ্গে বিজয়ী যারা হবেন তাদের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে তারা যেন শিল্পীদের সম্মানের প্রতি নজর রাখেন। সেই সঙ্গে বিবেদ নয়, শান্তির জন্য কাজ করবেন।’

আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছি : কাজী হায়াৎ

‘আমি একজন পরিচালক। সরকার আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দিয়েছে। এফডিসিতে আমাকে চেনে না এমন কেউ নেই। অথচ আমাকে এফডিসিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলো। তাহলে এতদিন কী করেছি? এ ঘটনায় আমি খুবই অপমানিত হয়েছি। শিল্পীদের নির্বাচন তো এটাই প্রথম নয়, আগেও দেখেছি। অনেক হাই  প্রোফাইল তারকা নির্বাচন করেছেন। এমন বাজে অবস্থা ছিল না। আমাদের গেটে আটকিয়ে কী বোঝাল নিরাপত্তারক্ষীরা। গেটে এভাবে হয়রানি করা হলো।’

দালালমুক্ত শিল্পী সমিতি চাই : পপি

‘বেশ কিছু দিন ধরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ঘিরে দালালি, রাজনীতি আর দুর্নীতি দেখে আসছি। এটা আমাদের শিল্পীদের জন্য চরম অসম্মানের। কমিটিতে অনেকবার এসব নিয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এ কারণে আমাদের মিটিংয়ে ডাকা হতো না। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি চাই, যেখানে কোনো শিল্পীর দুস্থ তকমা থাকবে না। বিদায়ী কমিটি এই শিল্পী সমিতির অনেক সদস্যকে দুস্থ শিল্পী বানিয়েছে। তা আমরা চাই না। মৌসুমী জয়ী হলে খুব ভালো হবে। কারণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এখন নারী। এ ছাড়া আমাদের বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম ইতিহাস গড়েছেন। আমি মনে করি, এবার যদি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মৌসুমী সভাপতি পদে জয়ী হন, তাহলে তা হবে ইতিহাস।’

এবারের ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো : অপু বিশ্বাস

‘এবারের পরিবেশটা অন্যান্যবারের তুলনায় ভালো লাগছে। আমাদের শিল্পের স্বার্থে এই জায়গাটা থাকা দরকার। গতবার যেরকম বিশৃঙ্খল ছিল এবার তেমনটা  চোখে পড়ছে না। এক কথায়, এবারের ভোটের পরিবেশ খুব ভালো। আমার সঙ্গে ড্রাইভার এবং সহকারী ছিল, তাদের গেটের বাইরে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলল। আমিও তাদের নামিয়ে দিলাম। আমি মনে করি, শিল্পীদের ভোটে বাইরের লোক থাকা ঠিক নয়। শুরুতেই এই নিয়মটা খুব ভালো লেগেছে। আশা করি, যারা ভালো করছেন তারাই বিজয়ী হবেন। সব প্রার্থীর জন্য শুভ কামনা।’

শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছি : আবুল হায়াত

‘এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে  ভোট দিয়েছি। অন্যান্যবারের তুলনায় ভিড় কম। তবে মনে হচ্ছে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যা আরও বাড়বে। বহিরাগত খুব একটা দেখিনি। এটা খুব ভালো লাগছে। যারা জয়লাভ করবেন তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা বিজয়ী হয়ে সবাই মিলেমিশে কাজ করবেন।’

উত্তপ্ত এফডিসি : পরিচালক সমিতির বিক্ষোভ

বেলা সাড়ে ১১টার পর হঠাৎ পরিচালক সমিতির সামনে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিচালক সমিতির অভিযোগ, তাদের এফডিসিতে ঢুকতে দিতে হবে। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। একপর্যায়ে পরিচালক সমিতির উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করতে সেখানে হাজির হন এফডিসির এমডি আবদুল করিম, শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি পদপ্রার্থী মিশা সওদাগর। তারা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের নির্দেশে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মিশা সওদাগর তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলে তারা বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মিশা সওদাগর ও এফডিসির এমডি পরিচালক সমিতি ত্যাগ করলে সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন উত্তেজিত হয়ে লোকজন নিয়ে এর প্রতিবাদ জানান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর