শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৪৫

টলিউডে শোকের ছায়া

না ফেরার দেশে তাপস পাল

শোবিজ ডেস্ক

না ফেরার দেশে তাপস পাল
জন্ম : ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ মৃত্যু : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল আর নেই। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। জান যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুরোগে ভুগছিলেন তাপস পাল। ১ ফেব্রুয়ারি বান্দ্রার হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি তার ভেন্টিলেশন খুলে নেওয়া হয়। গতকাল রাতে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে জন্ম নেন তাপস পাল। সিনেমা জগতে পা রাখার সময় তাপস পালের বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘দাদার কীর্তি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি এ জগতে পা রাখেন। এরপর ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘সাহেব’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসাসহ’ বেশ কিছু হিট ছবি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। অভিনেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন। ‘সাহেব’ ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। তাপস পাল বলিউড তারকা মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে ‘অবোধ’ নামের একটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।

অভিনেতা তাপস পাল পরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়ন পেয়ে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হন। তবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি দুর্নীতি ও বেফাঁস মন্তব্য করে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রোজভ্যালি দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে সিবিআই। চিটফান্ড দুর্নীতিতেও তার নাম ছিল।

এদিকে প্রিয় অভিনেতা ও সহকর্মীকে হারিয়ে টলিপাড়ার খ্যাতিমান তারকা ও নির্মাতারা পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, রঞ্জিত মল্লিক, অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ও হরনাথ চক্রবর্তীসহ অনেকেই শোকবার্তা জানিয়েছেন।

প্রখ্যাত নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেন, তাপস পালের মতো প্রতিভাধর অভিনেতা টালিগঞ্জে কার্যত ছিল না। রাজনৈতিক মতামতের বাইরে সবাই অভিনেতা তাপসের গুণমুগ্ধ। তার সমতুল্য অভিনেতা বর্তমানে টালিগঞ্জে নেই। চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, এক ভাইকে হারালাম। পরপর ভালো অনেক সিনেমা করেছে ও। ‘দাদার কীর্তি’ ও ‘সাহেব’র মতো সিনেমাগুলো ভোলা যায় না। আজ ওর মৃত্যু সংবাদ পেলাম। কিন্তু দেহ চলে গেলেও ওর আত্মা থেকে যাবে। রঞ্জিত মল্লিক বলেন, খবরটা শুনে খুব খারাপ লাগছে। আমরা অনেক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছি। সব দর্শকনন্দিত।  খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। তার আত্মার শান্তি কামনা করি। তাপসের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। তিনি বলেন, আমি ভাবতে পারছি না ও নেই। অকালে চলে গেল। আমাদের পরিবারের মতো ছিল। আমরা একসঙ্গে কম সিনেমা করেছি? তাপস দা বাঙালি দর্শকের কাছে এমন একজন নায়ক যার ফুটপ্রিন্ট ততদিন থাকবে, যতদিন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থাকবে। তাপসের বন্ধুর মতো ছিলেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, কখনো মনে হয়নি ও অভিনেতা, আমি পরিচালক। আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আমাদের একসঙ্গে ওঠাবসা ছিল। ‘গুরুদক্ষিণা’ থেকে শুরু করে সংঘর্ষ, অনেক সিনেমা করেছি ওর সঙ্গে। সে নেই, আর ভাবতেই পারছি না।


আপনার মন্তব্য