শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জুলাই, ২০২০ ২২:২৬

অভিনেত্রী থেকে মানবহিতৈষী অ্যাঞ্জেলিনা

অভিনেত্রী থেকে মানবহিতৈষী অ্যাঞ্জেলিনা

হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবহিতৈষী। তিনি তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, দুইবার স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। চলচ্চিত্র জগতের বাইরে ২০০১ থেকে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন। একাধিকবার ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী’ নির্বাচিত হয়েছেন। তার কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের অভিনেত্রী

১৯৮২ সালে ‘লুকিন টু গেট আউট’ চলচ্চিত্রে বাবা জন ভইটের সঙ্গে একটি শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে জোলির আবির্ভাব। তবে পেশাদার চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে স্বল্প বাজেটের ছবি সাইবর্গ ২ (১৯৯৩)-এর মাধ্যমে। তার অভিনীত প্রথম বড় মাপের ছবি ‘হ্যাকারস’ (১৯৯৫)। এ ছবিতে তিনি নামভূমিকায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে জর্জ ওয়ালেস (১৯৯৭) ও জিয়া (১৯৯৮)-এর মতো সমালোচক-নন্দিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নাট্য চলচ্চিত্র গার্ল, ইন্টারাপ্টেড (১৯৯৯)-এ অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ভিডিও গেম নায়িকা লারা ক্রাফ্ট চরিত্র নিয়ে লারা ক্রাফ্ট : টুম্ব রেইডার (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয় তার তারকা খ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়। মূলত এরপর থেকেই জোলি হলিউডের অন্যতম ও সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক-প্রাপ্ত একজন অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তার চলচ্চিত্র-জীবনের সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক সফল দুটি চলচ্চিত্র হলো অ্যাকশন-কমেডিধর্মী মি. অ্যান্ড মিসেস. স্মিথ (২০০৫) এবং অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র কুং ফু পান্ডা (২০০৮)।

 

তিনবার বিয়ের পিঁড়িতে

ব্যক্তিগত জীবনে জোলি তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। প্রথমবার অভিনেতা জনি লি মিলার, দ্বিতীয়বার বিলি বব থর্নটন ও তৃতীয়বার ব্রাড পিটের সঙ্গে। পরবর্তীতে সবার সঙ্গেই তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। জোলি-পিট যুগলের দাম্পত্য সম্পর্ক বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে বারংবার আলোচিত হন। তাদের সন্তান-সন্ততির সংখ্যা ছয়; এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের তিন

সন্তান শিলোহ, নক্স ও ভিভিয়ান এবং বিভিন্ন সময়ে দত্তক নেওয়া তিন সন্তান ম্যাডক্স, প্যাক্স ও জাহারা।

 

যেভাবে অভিনয়ে আগ্রহ

শৈশব থেকেই জোলি নিয়মিতভাবে ছবি দেখতেন ও ছবি দেখার পর মায়ের কাছে, অভিনয় করার ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করতেন। কিন্তু তিনি কখনই তার বাবার কারণে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হননি। জোলির বয়স যখন ১১, তখন লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে তিনি অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই সূত্র ধরে তিনি লি স্ট্র্যাসবার্গ থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। সেখানে দুই বছর অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই থিয়েটার ইনস্টিটিউটে থাকাকালীন সময়ে বেশ কিছু মঞ্চনাটকেও অভিনয় করেন।

 

স্কুলে কেউ মিশত না তার সঙ্গে

জোলি ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলস হাই স্কুলে (পরবর্তী নাম মরেনো হাই স্কুল) ভর্তি হন। সেখানে তার সময় কাটত বিচ্ছিন্ন ও একাকী অবস্থায়, কারণ এ স্কুলের ছেলেমেয়েরা ছিল সেই এলাকার অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তান। অপরদিকে জোলির মা তার স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। অধিকাংশ সময়ই জোলিকে অন্যের ব্যবহৃত পুরনো জামা-কাপড় ব্যবহার করতে হতো। এ জন্য স্কুলের অন্য ছেলেমেয়েরা জোলিকে উত্ত্যক্ত করত।

 

‘জোলি’ নামধারণ

জোলির সঙ্গে তার বাবা জন ভইটের সম্পর্ক অত্যন্ত শীতল ও দূরত্বপূর্ণ। ২০০২ সালে জোলি তার নামের শেষাংশ থেকে আইনগতভাবে ‘ভইট’ শব্দটি বাদ দিয়ে  শুধু ‘অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ করার আবেদন করেন। দুই মাস পর তার নাম আইনগতভাবে ‘অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ হয়।

 

গোল্ডেন গ্লোব অর্জন

১৯৯৭ সালে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র জর্জ ওয়ালেস-এ কর্নেলিয়া ওয়ালেস চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে জোলির পরিচিতি বাড়তে শুরু করে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন ও এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

 

নির্মাতা হিসেবেও সফল

পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ও সফল হন তিনি। তার পরিচালিত ইন দ্য ল্যান্ড অব ব্লাড অ্যান্ড ছবিটি সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করে এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জোলিকে সারায়ে ভোর সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। তার নির্দেশিত আরেকটি ছবি আনব্রোকেনকে ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ ও আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট সেরা চলচ্চিত্র বলে উল্লেখ করে।

 

মানবহিতৈষী কর্মে যোগদান

 জোলি মানবহিতৈষী কর্মকান্ডে যুক্ত হলে তার চলচ্চিত্রে কাজের পরিমাণ কমে যেতে থাকে। তিনি ইউএনএইচসিআর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে একপর্যায়ে আন্তর্জাতিকভাবে পীড়িত ও দুস্থ অঞ্চলগুলো সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য জোলি ইউএনএইচসিআর-এর দ্বারস্থ হন। জোলি বিশ্বের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট জেনেভায় অবস্থিত ইউএনএইচসিআর-এর সদর দফতরে জোলিকে ইউএনএইচসিআর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ভূষিত করা হয়।

 

বাংলাদেশ ভ্রমণ

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার দিনের সফরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করতে আসেন। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল ২১ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে এবং কুতুপালংয়ে যান এবং রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন।

 

শিশুদের কল্যাণে আত্মনিয়োগ

২০০৬ সালে জোলি দাতব্য সংগঠন ‘জোলি/পিট ফাউন্ডেশন’-এর গোড়াপত্তন করেন, যা গ্লোবাল অ্যাকশন ফর চিলড্রেন এবং ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস নামের দুটি সংগঠনের প্রত্যেককে এক মিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেয়। সেই বছরই জোলি ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের স্থাপিত এডুকেশন পার্টনারশিপ ফর চিলড্রেন অব কনফ্লিক্টের সহ-চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন। এ প্রতিষ্ঠানটির কাজ হচ্ছে বিভিন্ন সংঘর্ষের শিকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা প্রদান করা।

 

স্বীকৃতি ও সম্মাননা

জোলি তার মানবহিতৈষী কর্মকান্ডের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ২০০২ সালের আগস্টে তিনি চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসেস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোগ্রাম প্রদত্ত প্রথম মানবহিতৈষী পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০০৩ সালে ইউনাইটেড নেশন্স করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন তাকে নতুন ঘোষিত পুরস্কার সিটিজেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড পুরস্কার প্রদান করে। ২০০৫ সালে তিনি ইউএনএ-ইউএসএ কর্তৃক গ্লোবাল হিউম্যানিটেরিয়ান পুরস্কার লাভ করেন। কম্বোডিয়ার রাজা নরোডোম শিয়ামনি ১২ আগস্ট ২০০৫ সালে তার দেশে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কাজ করার জন্য জোলিকে কম্বোডিয়ার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করেন। ২০০৭ সালে তিনি কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের একজন সদস্য হন এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি কর্তৃক ফ্রিডম পুরস্কারে ভূষিত হন।

 

 


আপনার মন্তব্য