শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:১৬

বাবা-মায়ের পথ ধরে মঞ্চে সন্তানরা

বাবা-মায়ের পথ ধরে মঞ্চে সন্তানরা
বাবা গোলাম মুস্তাফার সঙ্গে সুবর্ণা মুস্তাফা

মঞ্চ নাটক এখন  নিয়মিত হচ্ছে। তবে এ দেশের মঞ্চ নাটককে বেগবান করছে ঐতিহ্যবাহী কিছু পরিবার ও তাদের উত্তরসূরি। তাদের দেখানো পথ ধরেই বর্তমান থিয়েটার এগিয়ে যাচ্ছে সফলভাবে। আর বাবা-মায়ের হাত ধরেই থিয়েটার মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সন্তানরা। এমন থিয়েটারপ্রাণ কিছু পরিবারের সন্তানদের নিয়ে আয়োজন সাজিয়েছেন- পান্থ আফজাল

 

গোলাম মুস্তাফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী, প্রযোজক ও জাতীয় সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা। বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা এবং আবৃত্তিকার গোলাম মুস্তাফা। আশির দশকে সুবর্ণা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি ২২ বছর মঞ্চে অভিনয় করেন। সত্তর দশকে সুবর্ণা ঢাকা থিয়েটারে নাট্যকার সেলিম আল দীনের নাটক ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’-এ অভিনয় করেন। এরপর ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে আসেন।

 

আলী যাকের-সারা যাকেরের মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া

পরিবারের চারজনই সংস্কৃতি অঙ্গনকে করেছেন সমৃদ্ধ। আলী যাকের-সারা যাকের এবং তাদের সন্তান ইরেশ যাকের-শ্রিয়া যাকের। সন্তান দুজনের মধ্যে শ্রিয়া সর্বজয়া মঞ্চে অভিনয় করেছেন একাধিকবার। উর্দু ভাষার প্রখ্যাত লেখক সাদাত হাসান মান্টোর তিনটি গল্প নিয়ে ঢাকার মঞ্চের জন্য তৈরি নাটক ‘গোত্রহীন মান্টোর মেয়েরা’। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ব্যানারে এটি নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের ঊষা গাঙ্গুলী। তিন গল্পে রয়েছে তিনটি নারী চরিত্র। আর এই চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেছেন সারা যাকের, অপি করিম ও শ্রিয়া সর্বজয়া। শ্রিয়া কাজ করছেন রেডিও স্বাধীনে।

 

ফেরদৌসী-রামেন্দু মজুমদারের কন্যা ত্রপা

বাংলাদেশের নাট্যজগতে ফেরদৌসী মজুমদার এবং রামেন্দু মজুমদারের পদচারণ দীর্ঘদিন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে মঞ্চ ও টেলিভিশনে বহু স্মরণীয় প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন তারা। এই দুই মঞ্চ কিংবদন্তির মেয়ে ত্রপা মজুমদার মঞ্চে অভিনয় ও নির্দেশনায় সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এক সময় নাটকে অভিনয় করলেও এখন ত্রপা মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিবারের তিনজনকেই এই সময়ে মঞ্চে দেখা যায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে। তারা মঞ্চবান্ধব পরিবার।

 

. ইনামুল হক-লাকী ইনামের মেয়ে হৃদি হক এবং প্রীতি হক

স্বনামধন্য নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক ড. ইনামুল হক এবং লাকী ইনাম। লাকী ইনাম বর্তমানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান। এই দুই নাট্যজনের সুযোগ্য কন্যা হৃদি হক ও প্রীতি হক। মঞ্চ, টেলিভিশন ও বেতার নাটকে হৃদি হকের পদচারণ দীর্ঘদিনের। নাগরিক নাট্যাঙ্গন-এর বেশ কিছু প্রযোজনায় অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন হৃদি হক। এ ছাড়াও তিনি নাটক লেখেন। হৃদি নাগরিক নাট্যাঙ্গন-এর হয়ে প্রথম মঞ্চে নির্দেশনা দেন ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ নাটকটি। এরপর মঞ্চে নির্দেশনা দেন ‘৭১ ও একজন’ এবং ‘আকাশে ফুইটেছে ফুল’ মঞ্চ নাটক। নাটকে তিনি পোশাক নকশার দলে অসামান্য ভূমিকাও রেখেছেন। অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘১৯৭১ সেইসব দিন’র সংলাপ-চিত্রনাট্য ও নির্দেশনাও দিয়েছেন হৃদি। প্রীতি হক শুধু মঞ্চেই কিছু কাজ করেছেন।

 

নাসিরউদ্দীন ইউসুফ-শিমুল ইউসুফের সুযোগ্য কন্যা এশা

ঢাকার থিয়েটার মঞ্চে দেদীপ্যমান পরিবার বিশিষ্ট নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং শিমুল ইউসুফ। তাদের মেয়ে এশা ইউসুফ মঞ্চে কাজ করছেন সফলভাবেই। ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘আউটসাইডার’-এর নির্দেশনা দিয়েছেন এশা। তিনি ‘গল্প নিয়ে গল্প নাটক’ নামের আরেকটি নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছেন।

 

তারিক-নিমা পুত্র আরিক আনাম খান

জনপ্রিয় অভিনেতা এবং নাট্যনির্দেশক তারিক আনাম খান এবং নিমা রহমান। মঞ্চ, টিভি আর চলচ্চিত্র সব খানেই দুজনের সরব উপস্থিতি। ১৯৯০ সালের ১১ অক্টোবর নাট্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন তারিক আনাম খান। নাট্যকেন্দ্র থেকে প্রযোজিত একাধিক নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন বাবা ও ছেলে। ছেলে আরিক আনাম খানের ইচ্ছাতেই একসময় মঞ্চে ফিরে আসেন নিমা রহমান। এখনো বাপ-ছেলে বিভিন্ন প্রযোজনায় দাপিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

আবুল হায়াত কন্যাদ্বয় বিপাশা নাতাশা

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নান্দনিক অভিনয় নৈপুণ্যে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে আলো ছড়িয়েছেন গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত।  বাদল সরকারের রচনায় ও আলী যাকেরের নির্দেশনায় তিনি ‘বাকি ইতিহাস’ নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অনেক নাটকে তার সরব উপস্থিতি ছিল। মঞ্চে নিয়মিত নন এখন। তার সুযোগ্য কন্যা বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত। ১৯৮৫ সাল থেকে মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন বিপাশা। মঞ্চে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়-দলে অভিনেত্রী ও সেট ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেছেন। নাতাশা ছোটবেলায় বাবার হাত ধরেই মঞ্চে বেশকিছু প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন।

 

ফাল্গুনী হামিদ কন্যা তনিমা হামিদ

বাবা ম. হামিদ ও মা ফাল্গুনী হামিদ দুজনই জড়িয়ে আছেন সংস্কৃতিচর্চায়। সেই সুবাদে শৈশব থেকেই সংস্কৃতির সঙ্গে সখ্য তনিমা হামিদের। বহু বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অনেক দিন হয় শোবিজে ছিলেন না তিনি। তনিমা হামিদ টিভিতে অভিনয় না করলেও মঞ্চে নিয়মিত। এর বাইরে সংসারের পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। সর্বশেষ মঞ্চায়িত হয় তার অভিনীত একক নাটক ‘একা এক নারী’।

 

সৈয়দ আহসান আলী সিডনী পুত্র জিতু আহসান

প্রয়াত খ্যাতিমান অভিনেতা সৈয়দ আহসান আলী সিডনী পুত্র জিতু আহসান। নব্বই দশকের শেষদিকে ছোট পর্দায় জিতু আহসানের অভিষেক ঘটে। মঞ্চেও বেশকিছু প্রযোজনায় কাজ করেছেন। বেশকিছু বিজ্ঞাপন ও নাটক দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছেন দর্শকের মন। বর্তমানে খুব একটা নিয়মিত নন তিনি।

 

অনন্ত হিরা-নূনা আফরোজের মেয়ে প্রকৃতি শিকদার

নাট্যশিল্পী অনন্ত হিরা ও নূনা আফরোজের মেয়ে প্রকৃতি শিকদার। বাবা-মায়ের দেখানো পথেই তিনি হাঁটছেন। প্রাঙ্গণেমোর দলের হয়ে ‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’, ‘রক্তকরবী’, ‘শেষের কবিতা’, ‘কনডেমড সেল’ ও ‘হাছনজানের রাজা’ নাটকে অভিনয় করেছেন। আজ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে প্রাঙ্গণেমোরের নাটক ‘আওরঙ্গজেব’ মঞ্চায়নে একমঞ্চে উঠবেন হিরা, নূনা ও তাদের সন্তান প্রকৃতি। আওরঙ্গজেবকন্যা ‘জিনাত আরা’র চরিত্রে অভিনয় করবেন প্রকৃতি।

 

রোকেয়া রফিক বেবীর মেয়ে আনিকা

গুণী নাট্যজন রোকেয়া রফিক বেবী। তার মেয়ে আনিকা মাহিন একার লেখা ‘মর্ষকাম’ নাটকটি মঞ্চে আনে নাট্য সংগঠন থিয়েটার আর্ট ইউনিট। যোগ্য মায়ের যোগ্য সন্তান আনিকা।

 

আসাদুল-সোনিয়া কন্যা মেঘদূত

পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন। স্বামী, স্ত্রী আর তাদের কন্যা। এই তিনজন মিলেই গঠিত হয়েছে নাট্যদল ‘ম্যাড থেটার’। নাট্যকার আসাদুল ইসলাম, তার স্ত্রী সোনিয়া হাসান এবং কন্যা মেঘদূতকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই ম্যাড থেটার। তাদের প্রথম প্রযোজনা ‘নদ্দিউ নতিম’। ৩টি চরিত্রে তারাই অভিনয় করেছেন।

 

পারিবারিক সংস্কৃতি আবহেই মঞ্চে জ্যোতি সিনহা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মেয়ে জ্যোতি সিনহার বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে সংস্কৃতিমনা হয়ে বেড়ে উঠুক। ১৯৯৬ সালের ২ জানুয়ারি জ্যোতির বাবা মারা যান। সে বছরই শুভাশিস সিনহা মনিপুরী থিয়েটারের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৯৭ সালের পয়লা বৈশাখে কিশোরী জ্যোতি বিষু উৎসবের নাটক আজবপুরের বর্ষবরণ-এ রাজকন্যার ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর থেকে মনিপুরী থিয়েটারের অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।


আপনার মন্তব্য