শিরোনাম
শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩ ০০:০০ টা

কেন অভিনয় থেকে দূরে তাঁরা

কেন অভিনয় থেকে দূরে তাঁরা

একসময় রুপালি পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। দর্শকমন জয় করে অভিনয় করে গেছেন। নানা খেতাবেও ভূষিত হয়েছেন। লাভ করেছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। আজ তাঁরা চলচ্চিত্রে নেই। এমন কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নায়িকাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

শবনম

মনের মতো চরিত্রের অভাবে চলচ্চিত্র ছাড়লেন

১৯৬১ সালে মুস্তাফিজের ‘হারানো সুর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ঘটে শবনমের। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানে গিয়ে স্থায়ী হন। ১৯৯৯ সালে পুনরায় বাংলাদেশে এসে কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ ছবিতে অভিনয় করেন। এরপর তাঁকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। তাঁর কথায় মনের মতো চরিত্র পাননি বলে চলচ্চিত্রে অভিনয় ছেড়েছেন তিনি।

 

সুচন্দা

মানসম্মত গল্পের অভাবে অভিনয় ছাড়লেন

১৯৬৬ সালে সুভাষ দত্তের ‘কাগজের নৌকা’ ছবির মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে সুচন্দার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত অভিনয় করে যান তিনি। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণও করেন। এরপর মানসম্মত গল্পের অভাবে অভিনয় থেকে অবসর নেন বলে জানান কোহিনূর আক্তার সুচন্দা।

 

শাবানা

সন্তানের টানে অভিনয় থেকে বিদায় নেন

১৯৬৭ সালে এহতেশামের ‘চকোরী’ ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান শাবানা। প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়, ২৫টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও এগারোবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আজিজুর রহমানের ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ছবিটিতে ছিল তাঁর শেষ অভিনয়।  এরপর সন্তান আর সংসারের টানে ১৯৯৯ সালে অভিনয় থেকে অবসর নিয়ে মেরিকায় সন্তানদের কাছে চলে যান তিনি।

 

ববিতা

পছন্দসই গল্পের অভাবে অভিনয়ে নেই

১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘সংসার’ ছবির মাধ্যমে চিত্রজগতে অভিষেক ববিতার। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় আড়াইশত ছবিতে অভিনয় করেন। এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ২০১৫ সালে সর্বশেষ অভিনয় করেন নার্গিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ ছবিতে। তাঁর কথায় এরপর অনেক নির্মাতাই ছবির প্রস্তাব নিয়ে আসেন তাঁর কাছে। কিন্তু গল্প আর চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় অভিনয় থেকে দূরে সরেন তিনি।

 

অলিভিয়া

শফীর মৃত্যুর কারণে অভিনয় ছাড়েন

অলিভিয়া প্রথম বড় পর্দায় নায়িকা হয়ে আসেন এস এম শফী পরিচালিত ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ ছবির মাধ্যমে। ১৯৭২ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর জনপ্রিয়তা নিয়ে অর্ধশতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় তাঁর সর্বশেষ অভিনীত ‘দুশমনি’। এস এম শফীকে ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন অলিভিয়া এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শফী। এরপর চলচ্চিত্র জগৎ ত্যাগ করেন। বিয়ে করেন ফতুল্লার মুনলাইট টেক্সটাইল মিলের কর্ণধার হাসানকে।

 

জয়শ্রী কবির

হতাশায় অভিনয় ছাড়েন

১৯৭৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবিরের হাত ধরে বড় পর্দায় আসেন কলকাতার নায়িকা জয়শ্রী রায়। হাতেগোনা কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন এবং জনপ্রিয়তা পান। চিত্রপরিচালক আলমগীর কবিরকে বিয়ে করে এ দেশে থেকে যান। আশির দশকের মধ্যভাগে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর চরম হতাশায় তিনি কলকাতায় পাড়ি জমান ও অভিনয় ছাড়েন। আলমগীর কবির ১৯৮৯ সালে মারা গেলে একমাত্র সন্তান লেনিন সৌরভ কবিরকে নিয়ে জয়শ্রী চলে যান লন্ডনে।

 

অঞ্জু ঘোষ

মাস্তানদের কারণে দেশ ছাড়েন

১৯৮২ সালে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে অঞ্জু ঘোষের। এরপর ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ অবিশ্বাস্য রকমের ব্যবসা করে নতুন রেকর্ড গড়ে। তিনি কলকাতায় চলচ্চিত্র ও সেখানে যাত্রাপালাও করেন। চলচ্চিত্রকার সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, বিভিন্ন নির্মাতা ও স্থানীয় মাস্তানদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে অঞ্জুর ওপর। তারা তাঁকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করলে ১৯৯৬ সালে বাধ্য হয়ে সপরিবারে কলকাতা চলে যান অঞ্জু। ২০১৮ সালে একবার ঢাকায় আসেন।

 

শাবনাজ

প্রেম-পারিবারিক কারণে অভিনয় ছাড়েন

এহতেশাম ১৯৯১ সালে ‘চাঁদনী’র মাধ্যমে শাবনাজকে বড় পর্দায় আনেন। প্রথম থেকে প্রায় সব ছবিতেই তাঁর নায়ক ছিলেন নাঈম। একসময় তাঁরা ভালোবেসে বিয়ে করেন এবং নব্বই দশকের শেষ ভাগে চলচ্চিত্র থেকে স্বেচ্ছায় বিদায় নিয়ে সংসার জীবন শুরু করেন শাবনাজ। নাঈম বলেন, ১৯৯৪ সালে প্রথম প্রযোজনায় এলাম। কিন্তু ‘আগুন জ্বলে’ ছবিটি সফলতার মুখ না দেখলে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হলাম। এরপরই বাবাকে হারালাম। এগুলো চলচ্চিত্রবিমুখ করে দেয়।

 

শাবনূর

পারিবারিক কারণে অভিনয় থেকে দূরে

শাবনূরের অভিষেক হয় এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ ছবির মাধ্যমে। প্রায় দেড় শতাধিক ছবিতে অভিনয় এবং জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ২০১২ সালে গোপনে সহশিল্পী অনিককে বিয়ে করেন এবং ২০১৩ সালে মা হন। ২০২০ সালে স্বামীকে ডিভোর্স দেন। ২০১৩ সাল থেকেই সংসার ও সন্তানের টানে শাবনূর চলচ্চিত্র থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান। চলতি বছরের প্রথমদিকে দেশে ফিরেন তিনি। স্বামী অনিকের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২৬ জানুয়ারি তালাক দিয়ে ফের অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

 

পপি

তিন বছর ধরে নেই খোঁজ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী পপিকে বছরতিনেক ধরে কোথাও দেখা যায় না। আড়ালে যাওয়ার কদিন পর চাউর হয়, বিয়ে করে তিনি সংসারী হয়েছেন, এমনকি তিনি মা-ও হয়েছেন। এত কিছুর পরও তাঁকে ক্যামেরার সামনে পাওয়া যায়নি। পরিচিতজনদের কাছে দারুণ আড্ডাবাজ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। যেখানেই থাকতেন, চারপাশ জমিয়ে রাখতেন। ঢালিউডের খোলা মনের মানুষটি নেই কোনো শুটিংয়ে। নেই কোনো নতুন ছবির খবরেও। চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট আড্ডায়ও নেই।

সর্বশেষ খবর