শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৮:৪৩
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৮:৫৬

নেতাদের বিচার হতে দেখলে আমলা-পুলিশ নিজেই সোজা হয়ে যাবে!

আনিসুর রহমান মিঠু

নেতাদের বিচার হতে দেখলে আমলা-পুলিশ নিজেই সোজা হয়ে যাবে!
আনিসুর রহমান মিঠু

যোগদান নয়, পালের গোদারা আশ্রয় নিচ্ছে এবং ছোটদের অনুপ্রবেশ ঘটছে আওয়ামী লীগের নানা অঙ্গে!

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির-ছাত্রদল নাই! সকল ছাত্ররা ছাত্রলীগের মিছিলে থাকে! সাবেক ছাত্রদল নেতার ছেলে, সাবেক শিবির নেতার ছেলে, সবাই এখন ছাত্রলীগের মিছিলে!

এদের বাবারা কি ঘরে গেলে এদের গালাগালি করেন? নাকি ছাত্রলীগের সাথে লেগে থাকতে বলেন? এরাকি বাবার অবাধ্য, নাকি কৌশল নিয়েছে?

এই অনুপ্রবেশকারীরা মালিক হয়ে যেতে পারে আমাদের ছাত্র সংগঠনের। যা হবে পরবর্তী সময়ের জন্য ভয়াবহ। একটা সময়ে নেতারা কষ্টে থাকলেও দল বদল করতোনা  জেল খেটে, মার খেয়ে নিজের দলে কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতো!

এখন আওয়ামী বিরোধীরা বেশী দুর্বল হয়ে পরায়, তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সরকারি দলে আশ্রয় নিচ্ছে! তারা শুধুমাত্র সম্পদ রক্ষার জন্য সরকারি দলে আশ্রয় খুঁজছে, কেউ সরাসরি যোগ দিচ্ছে, আবার কেউ কেউ নিজ দলে থেকেও সরকারি দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করছে!

এতে কোন কোন নেতার গ্রুপ হয়তো সাময়িক ভারী হচ্ছে, কিন্তু দল কোন ভাবেই লাভবান হচ্ছে না।

গত দশ বছরে, গোপনে চষে বেড়াচ্ছে শিবির! তাদের কর্মীরা খাতা মেইনটেইন করে! কে কাকে সমর্থক বানিয়েছে, কোন সমর্থক কর্মী হয়েছে, কোন কর্মী বেশী এক্টিভ, কোন শিবির কর্মী কোন ছাত্রলীগ নেতার সাথে লেগে আছে, সমস্ত হিসাব এদের আছে!

আমাদের ছেলেরা বিশাল কমিটি করে এদের দলীয় পদবী পাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে! এদের নিয়ে মিছিল করে আমাদের ছাত্রনেতারা আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে!

বিভিন্ন পৌর মেয়র শ্রেণির নেতাদের কেন কেন্দ্রীয় নেতারা আওয়ামী লীগে আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তা বোধগম্য নয়! এতেকি আমাদের ভোট বাড়ছে? শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে দলীয় ভাবমূর্তি ঊজ্জল করার এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে জন সমর্থন বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। কারণ এখন শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারীরাই অন্যায়, অপকর্ম, দুর্নীতি, চোরাকারবারী, মাদক ব্যাবসা, জমি দখলের সাথে যুক্ত নয়। দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত নেতারাও যুক্ত হয়ে পড়েছে।

দুর্নীতিবাজ সাবেক মন্ত্রী, বিতর্কিত এমপি, কিংবা বড় নেতা, মাত্র দশ বছর আগে যাদের কিছুই ছিলো না! শূন্য থেকে এখন তারা বড় কোটিপতি!
তাদের কালো টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাতিল করে, তাদের জেলে পুরালে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে। শুদ্ধি অভিযান মানে শুদ্ধি অভিযান, আই ওয়াশ নয়। জনগণ এখন আর পাবলিক নাই, ওরা সব বুঝে!

শেখ হাসিনা সরকারের শুদ্ধি অভিযান এমন হওয়া উচিৎ, যেন আগামী পঞ্চাশ বছর তা উদাহরণ হয়ে থাকে। নেতাদের বিচার হতে দেখলে, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা ও পুলিশ নিজেই সোজা হয়ে যাবে!

লেখক: যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য