শিরোনাম
প্রকাশ : ২ জুলাই, ২০২০ ১৬:২৬
আপডেট : ২ জুলাই, ২০২০ ১৬:৩০

পোলাও খাওয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নুরুল করিম ভূঁইয়া

পোলাও খাওয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নুরুল করিম ভূঁইয়া

শিরোনাম দেখে কেউ ভোঁ করে দৌঁড় দিয়ে পোলাও খেতে ক্যাম্পাসে চলে যাবেন না, প্লিজ। দাঁড়ান, আগে শুনুন, বুঝুন, ঘাওয়া ঘিয়ে ভাজা পোলাওয়ের একটু নগদ ঘ্রাণ নেন। তারপর না হয় শতবর্ষের পুরনো এ বিদ্যাপীঠের দিকে একটা কেচকা দৌঁড় মারতে চাইলেও কারো হয়ত আপত্তি করার কথা নয়। বাংলায় আজ ২ জুলাই হলেও মার্কিনের পৃথিবী এখনো ০১ জুলাইতেই আছে। জুলাই ০১, ১৯২০-এ আমাদের প্রাণের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। সে হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে আমরা সবাই কমবেশি দারুণ উৎফুল্ল।

আনন্দের এ দিনে পোলাও খাওয়ার একটা স্মৃতি শেয়ার করি সবার সাথে। হল জীবনের শুরুর দিনগুলোতে আমার আশ্রয় মিলে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১১১ নং রুমে। ১৯৯৮ সালের কোন এক অপরাহ্নে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আনিস ভাই (Anisur Rahman, খুব স্বপ্ন দেখতেন ঢাকসুতে নির্বাচন করবেন) আমাকে নিয়ে যান ওই রুমে এবং সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আমার কয়েক রুম ডানেই থাকতেন চট্টগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসক শ্রদ্ধেয় Elius Hossain। আর যতদূর মনে পড়ে দক্ষিণের ব্লকের বাসিন্দা ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক শ্রদ্ধেয় Jashim Uddin। কয়দিন পরেই আমি চলে যাই চারতলায় আমার নামে বরাদ্দকৃত ৪০৮ নম্বর রুমে। এখানেই কেটে যায় বাকি হল জীবন। তার বেশ কিছুদিন পরেই মানবজমিনের একটা সংবাদ বেশ নজরে আসে সবার। সংবাদের শিরোনাম হলো ‘আজকে যারা পোলাও খাবেন।’ মারাত্মক ব্যাপার স্যাপার; খাওয়া দাওয়ার শিডিউল পত্রিকায়! তাই মনোযোগ দিয়ে পড়তে গিয়েই চোখ টান টান হয়ে আসে। এ তো সেই, জিয়া হল, আমার প্রাক্তন ১১১! ততদিনে নেলসন নম্বর-১১১ গণরুমে পরিণত হয়েছে, ৪ জনের সিটে ১৬ জনের বসবাস। ঠাসাঠাসির এ রাজ্যে পালা করে ৪ সিটে ৮ জন আর ৮ জন ফ্লোরিং করে ঘুমায়। কে কবে ফ্লোরিং করবে, তার একটা তালিকা বড় হরফে টাঙানো আছে রুমের দরজায়। রুম বাসিন্দারাই সমঝোতার ভিত্তিতে সাজিয়ে নিয়েছেন সপ্তাহের কোনদিন কে ফ্লোরিং করবে। সে তালিকার একটা সুন্দর নাম ও তারা দিয়েছেন; মোটা অক্ষরে লেখা আছে ‘আজকে যারা পোলাও খাবেন’। ওই রুমের ছাত্রদের সাথে কথা না বললে কারো বাবার সাধ্যি নাই এ পোলাও তত্ত্বের আসল হেতু কি তা জানার। জানি না সে সব ক্রিয়েটিভ অদম্য মেধাবী অনুজরা এখন কে কোথায় আছে? দোয়া করি বাস্তব জীবন তাদের পোলাও কোরমায় ভরে উঠুক।

জানতে মন চায় সিংগারা, সমুচা, চপ ও চায়ের দাপুটে এ যুগে পুরনো দিনের সেই পোলাও খাওয়ার চল এখনো চালু আছে কিনা?
শতবর্ষের এ দিনে প্রকৃত জ্ঞান বিলাসী গবেষণাধর্মী বিদ্যাপীঠে পরিণত হোক আমাদের সবার প্রাণের এ বিশ্ববিদ্যালয়, এ প্রার্থনাই করছি বিধাতার কাছে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর