শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৩৬
প্রিন্ট করুন printer

নিশ্চিত ওনাদের মুক্তিযোদ্ধা বাবারাও লজ্জা পেয়েছেন

আশরাফুল আলম খোকন

নিশ্চিত ওনাদের মুক্তিযোদ্ধা বাবারাও লজ্জা পেয়েছেন
আশরাফুল আলম খোকন

প্রায় একবছর আগের ঘটনা। করোনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে লকডাউন চলছে। নারায়ণগঞ্জ তখন খুবই করোনাপ্রবণ, তাই লকডাউন খুব কড়াকড়ি। ঢাকাতেও লকডাউন। কাজকর্ম একটু কম। আমি তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত। সাথে আমারই এক সহকর্মী সারেয়ার ই সরকার জীবন। আমার গ্রামের বাড়ি যাবার জন্য বের হয়েছি। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে বালু নদী অতিক্রম করলেই নারায়ণগঞ্জের এরিয়া শুরু। আমাদের বিপত্তিও সেখানেই শুরু হলো। রাস্তাতে চেকপোস্ট। আমাদের গাড়ি যথারীতি থামালো। 

ড্রাইভারদের ভাবচক্কর একটু বেশিই থাকে। আমরা কিছু বলার আগেই সে এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ি বলে গাড়িতে লাগানো কার্যালয়ের স্টিকার আঙ্গুল দিয়ে পুলিশকে দেখালো। পুলিশ সদস্য বললেন, “তা বুঝলাম কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীতো আর গাড়িতে নাই। গাড়ি অনুমতি ছাড়া এই এলাকাতে ঢুকতে পারবে না।” আমাদের কাছে লকডাউন এলাকায় প্রবেশ করার কোনো অনুমতি পত্রও নেই। বুঝলাম আমরা ভুল করেছি। কোনো রকম তর্কে না জড়িয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যপথ দিয়ে গন্তব্যে গিয়েছি। 

এতদিন পর এইসব লেখার কারণ হলো গতকালের একটি ঘটনা। একজন ডাক্তার, একজন ম্যাজিস্ট্রেট, আরেকজন পুলিশ। দেশের প্রথম শ্রেণীর তিনজন কর্মকর্তার কাণ্ডকীর্তি দেখে। জানিনা কার কি হয়েছে, আমি লজ্জা পেয়েছি। নিশ্চিত ওনাদের মুক্তিযোদ্ধা বাবারাও লজ্জা পেয়েছেন। নিশ্চয় তারা চাননি তাদের সন্তানদের কর্মকাণ্ড তাদের বীরত্বকে মানুষের কাছে হাস্যরসের পাত্র করবে। সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তির জন্য সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন মাত্র লক্ষাধিক বীর। আর কেউ না জানুক, সন্তান হিসেবে অন্তত আপনাদের বুঝা উচিত আপনাদের বাবারা কত উঁচু মাপের মানুষ।

কে দোষী কে দোষী নন এটা বিতর্কের বিষয়। তবে একজন সাধারণ মানুষেরও জানা উচিত, জরুরি অবস্থায় অবশ্যই, আবারো বলছি অবশ্যই পরিচয় পত্র বা অনুমতি পত্র নিয়ে বের হয় উচিত, আপনি যে পেশার মানুষই হন না কেন। ডাক্তার মহোদয় ভুল করেছেন আর গাড়ি আটকিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সঠিক কাজটিই করেছেন। আমার বক্তব্য এই তিনজনের পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে। কেউ পাগল হলে তার সাথে পাগল হতে হয় না। কেউ বেয়াদব হলে তার সাথে বেয়াদব হতে হয় না। 

এমন যদি হতো, ডাক্তার ম্যাডাম পরিচয়পত্র সাথে আনেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এবং এই কথাতে সন্তুষ্ট হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশও সুন্দর ব্যবহার করে ওনাকে যেতে দিয়ে পরবর্তীতে পরিচয় পত্র সাথে নিয়ে বের হবার জন্য মনে করিয়ে দিয়েছেন। ডাক্তার ম্যাডামও ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন। 

আমার মনে হয়না এমন হলে কারো স্ট্যাটাস কিংবা ক্ষমতা কমে যেত। আসলে পদ-পদবি দিয়ে স্ট্যাটাস হয় না। স্ট্যাটাস অন্য বিষয়। যা শুধু পদ ও সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্জন করা যায় না। ভদ্রতা ও আচরণ বলে দুইটা গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আছে। যা সবারই জানা উচিত। বাচালতা ও উগ্রতা শুধু আপনাকে নয়, আপনার বংশ এবং পরিবারকেও ছোট করে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ