শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০২১ ১৬:৪৮
প্রিন্ট করুন printer

থমকে গেছে সোনারগাঁওয়ের পর্যটন শিল্প

মুহাম্মদ আল আমিন, সোনারগাঁও

থমকে গেছে সোনারগাঁওয়ের পর্যটন শিল্প
Google News

প্রাণঘাতী মহামারী করোনাভাইরাসে পর্যটকদের কোলাহল থেমে গেছে, নেই কোন হৈ হুল্লা আর আনন্দ উল্লাস। প্রতি বছর ঈদ, সরকারি ছুটিতে সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও গত দুই বছর ভিন্ন চিত্র, নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা, এতে করে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। করোনা সংক্রমণ রোধে ১ এপ্রিল থেকে সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে সব পর্যটন কেন্দ্র দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং সকল পর্যটন কেন্দ্র পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জেলা প্রশাসন, এর পর লকডাউনের কারণে এখনো বন্ধ জেলার সকল হোটেল-মোটেল এবং পর্যটনকেন্দ্র।

এদিকে সাড়ে চার মাস যাবৎ হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। লোকসানের পাল্লা ভারি হলেও আয়ের খাত শূন্য। পাশাপাশি বেকার হয়েছে পড়ছে হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী।

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির নির্মল স্বাদ পেতে পর্যটককের ঢল নামত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে। সোনারগাঁয়ে ঐতিহাসিক পানাম নগরী, সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলা তাজমহল,পাচঁ বিবির মাজারসহ মেঘনা নদী আর পর্যটনকেন্দ্রে গুলো ঘুরে মনে আনন্দের পাশাপাশি প্রকৃতির অপরূপ রূপ অবলোকন করতো পর্যটকেরা। কিন্তু এখন সবই ফাঁকা থাকায় বেকার দিন গুণছে পর্যটন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।

জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মূল ফটকে লাগানো হয়েছে তালা, আর কর্মচারীরা পার করছেন অলস সময়। পর্যটক না থাকায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে শূন্যতা, ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত শ্রমিকরা তারেক মিয়া বলেন, সাড়ে তিন মাসের উপর হয়ে গেল শ্রমিকদের গাড়ির চাকা বন্ধ রয়েছে। গাড়িগুলোর মালিক ও শ্রমিকরা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল এবং তাদের মাধ্যমে আয় রোজগার। গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কষ্টে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে অনেকইে, ভবিষ্যতে শ্রমিকদের ভাগ্য কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অনেকেই।

নারায়ণগঞ্জের আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক মোঃ হাসান জহির বলেন, করোনাকালীন প্রথম থেকে এ পর্যন্ত হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক-কর্মচারিরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা,এক কথায় করোনাভাইরাসে জীবন জীবিকা স্তব্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মুস্তায়িন বিল্লাহ বলেন, করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে , তাই সাধারণ জনগণকে মহামারি থেকে রক্ষা করা, আর পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোনারগাঁয়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, করোনা আর লকডাউনে নারায়ণগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাওয়া ত্রাণ সহায়তা আমরা বিভিন্ন সেক্টরে প্রদান করেছি এবং বিভিন্ন পর্যটন শ্রমিক, পর্যটকবাহী যান এর চালক-হেলপারসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট যারা অসহায় হয়ে দিনযাপন করছে তাদের আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সহায়তা দিয়ে এসেছি। আর যদি কেউ না খেয়ে কষ্ট পায় তবে জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

করোনার প্রকোপ কমে গেলে আবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্বান্ত নিয়ে প্রশাসন জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে আর নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াবে জেলার পর্যটনশিল্প।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর