শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ নভেম্বর, ২০১৫ ২২:৪৯

উত্তরায় জাপানি নারীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

রিমান্ডে পাঁচজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তরায় জাপানি নারীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

রাজধানীর উত্তরায় এক জাপানি নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হিরোয়ি মিয়েতা নামের ষাটোর্ধ্ব ওই জাপানি নাগরিককে ‘হত্যার পর’ তার পরিচয় গোপন রেখে দাফন করা হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, হিরোয়ি মিয়েতা প্রায় ১০ বছর ধরে ‘অবৈধভাবে’ বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন এবং এ দেশে বায়িং হাউসের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি নম্বর সড়কের ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ে ‘সিটি হোমস’ নামের একটি হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই ছিলেন। ভাড়া বকেয়া হওয়ায় সম্প্রতি  তিনি ভাটারা এলাকার একটি বাসায় উঠেছিলেন। আরও জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর জাপান দূতাবাসের পক্ষে ভাইস কাউন্সিলর কুসুকি মাৎসুনাগা উত্তরা পূর্ব থানায় একটি জিডি করেন (নম্বর-৯৩৫)। জিডিতে বলা হয়, তাদের এই নাগরিক তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। এরপর পুলিশ জানতে পারে ২৯ অক্টোবর মিয়েতার মৃত্যুর পর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের খালেরপাড় কবরস্থানে মুসলিম পরিচয়ে গোপনে তাকে দাফন করা হয়। এমনকি মৃত্যুর খবরও কাউকে জানানো হয়নি। উত্তরা (পূর্ব) থানার ওসি আবু বকর জানান, জাপানি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার মৃত্যু ও গোপনে সমাহিত করায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর উত্তরা পূর্ব থানায় ছয়জনকে আসামি করে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে ঢাকা, লক্ষীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন মারুফ, রাশেদ, ফখরুল, জাকির পাটোয়ারী ও ডা. বিমল চন্দ্র শীল। তবে ওই পাঁচজনের সঙ্গে সেই জাপানি নারীর যোগাযোগ কি ধরনের ছিল- সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ওসি। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত করার জন্য লাশ উত্তোলন করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মিজানুর রহমান জানান, হিরোয়ি প্রতি সপ্তাহে জাপানে বসবাসরত মাকে টেলিফোন করে নিজের অবস্থা জানাতেন। ২৬ অক্টোবর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান তার মা। ফলে বিষয়টি তিনি ঢাকায় জাপান দূতাবাসকে অবহিত করেন। এদিকে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, ২০০৬ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সিটি হোমসেই থাকতেন জাপানি নারী। অনেক টাকার বিল বকেয়া পড়ায় আড়াই মাস আগে ভাটারা এলাকার একটি বাসায় তার থাকার ব্যবস্থা করে দেন তারা। সেখানেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৯ অক্টোবর হিরোয়ি মিয়েতার মৃত্যু হয়। ওই নারীর বাংলাদেশি বন্ধুরা পুলিশকে বলেছেন, অবৈধভাবে বাংলাদেশে থাকছিলেন বলে তাকে কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তাদের পরিচিত ডা. বিমল চন্দ্র শীল তার চিকিৎসা করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর। মৃত্যুর বিষয়টি জাপানে তার মাকেও জানানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা রিমান্ডে : ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার ওসি আবু বকর গতকাল দুপুরে ওই পাঁচজনকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী আসামিদের চার দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।


আপনার মন্তব্য