শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ মে, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০১৬ ২৩:৩০

বিভিন্ন দেশে ১০ লাখ কম্পিউটার হ্যাক

ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত

আলী রিয়াজ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১০ লাখ কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার স্থাপন করেছে হ্যাকারদের একটি গ্রুপ। এ হ্যাকিংয়ের ফলে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সব তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে। তারা এখন যে কোনো সময় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম। এর ফলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক ওয়েবসাইট ডেটাব্রিচটুডে ও হ্যাকার নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা এ বিষয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে তারা বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের ব্যাংকের হ্যাকিং করা তথ্য প্রকাশ করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, সাইবার নিরাপত্তা তথ্য হ্যাক হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত চরম ঝুঁকিতে আছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ গতকাল বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত এখন সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায়। বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হ্যাকারদের দৃষ্টি এখন আমাদের দেশের প্রতি বেড়েছে। ফলে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে। আমাদের এখানে

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং যেভাবে প্রসার হয়েছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক সময় কম মূল্যের ডিভাইস, অ্যাপ্লিকেশন হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো খুবই উদ্বেগের। সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে হলে দ্রুত অ্যান্টি ক্লোনিং ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোর যথেষ্ট নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ হ্যাকারদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে হ্যাকাররা বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা সিস্টেমে ঢুকে ম্যালওয়্যার স্থাপন করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যান্টিভাইরাস দিতে গেলেও ম্যালওয়্যার সম্পর্কে কোনো তথ্য দেবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানের জানার সুযোগই থাকবে না যে, কোনো ম্যালওয়্যার আছে কিনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ফলে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক আরটিজিএস প্রযুক্তি স্থাপনের সময় প্রথমে তা চালু হয়নি। পরে আরটিজিএস চালু হলে অ্যান্টিভাইরাস কাজ করেনি। একই পদ্ধতিতে হ্যাকাররা বাংলাদেশের একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার সিস্টেমে ম্যালওয়্যার স্থাপন করেছে। সূত্র বলছে, এ কারণেই চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশে এসে এটিএম বুথ থেকে অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশের বুথ ব্যবহার করে সৌদি আরবের রিয়াদ ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের অর্থ উত্তোলন করেছে। এটিএম বুথ ও কার্ডের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নিয়ে হ্যাকাররা এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের চার ব্যাংকের সাইবার সিস্টেমের হামলা ও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোপন কোনো তথ্য তারা নিতে পারেনি। আরও জানা গেছে, হ্যাকাররা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমে আক্রমণ করেছে। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ২৫ বিলিয়ন ডলার হ্যাকিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অর্থ চুরির আগে বিষয়টি ধরাও পড়ে। ফিনিশ ফিশার নামে আরেকটি হ্যাকার গ্রুপ ১১ হাজার ডলার চুরি করে সিরিয়ার অ্যান্টি-আইএসআইএস গ্রুপকে সহায়তা হিসেবে দিয়েছে। রাশিয়া ও তুরস্কের কোনো গ্রুপ এ কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশিষ্ট ব্যাংকার মামুন রশিদ এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে এর ঝুঁকিও তত বেশি বাড়বে। ব্যাংকিং বা আর্থিক খাতে প্রযুক্তির সমস্যা সারা বিশ্বেই এখন আলোচনার বিষয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো হার্ডওয়্যার কিনতে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু সফটওয়্যারে সে তুলনায় কোনো বিনিয়োগ করতে চায় না। অনেক প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার পাইরেসি। অনেক প্রতিষ্ঠানের পাইরেসি সফটওয়্যার সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। ফলে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মারাত্মক ত্রুটি থেকে যায়। এ ত্রুটি আমাদের জন্য খুবই সমস্যা তৈরি করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহারে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা বন্ধ করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে ডায়নামিক পাসওয়ার্ড দিতে হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর