Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৯

সাব্বিরের ব্যাটে জয়ের হাতছানি

মেজবাহ্-উল-হক, চট্টগ্রাম থেকে

সাব্বিরের ব্যাটে জয়ের হাতছানি

ইংলিশ সাংবাদিকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস! সাকিব আল হাসানের আউটের পর আবেগতাড়িত হয়ে প্রেসবক্সেই এক সাংবাদিক চিৎকার করে ওঠেন। বাংলাদেশের সর্বশেষ স্বীকৃত জুটি ভেঙে দেওয়ার আনন্দে মাঠে ইংলিশ ক্রিকেটাররাও করে বুনো উল্লাস। তবে স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। রোদে পুড়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ছাদহীন গ্যালারিতে যে হাজার কয়েক দর্শক খেলা দেখছিলেন তাদের  মধ্যেও হতাশার স্রোত বইয়ে যায়! শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়নি দর্শকদের। বাংলাদেশ এখনো হারেনি। যদিও আশার আলোটা জ্বলছে টিম টিম করে। আজ শেষ দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৩ রান। হাতে রয়েছে দুই উইকেট। সাব্বির রহমান উইকেটে আছেন বলেই এখনো স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। গতকাল সাকিব আউট হওয়ার পর জয়ের জন্য শেষ পাঁচ উইকেটে  বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৪৬ রান। টপ অর্ডারের পাঁচ উইকেটে যেখানে ১৪০ রান হয় সেখানে লোয়ার অর্ডারের পাঁচ উইকেটের ওপর আর কতটাই বা ভরসা করা যায়! তা ছাড়া প্রথম ইনিংসের ভেঙে পড়ার  দৃশ্যটিও হয়তো কাঁটার মতো বিঁধছিল। শেষ পাঁচ উইকেটে উঠেছিল মাত্র ২৭ রান। তখনও তো সাকিব আউট হওয়ার পর বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। তবে প্রথম ইনিংসে টিভি আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে যে সাব্বির রহমানকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল সেই সাব্বিরই বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। গতকাল ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। ৯৩ বলে ৩টি বাউন্ডারি ছাড়াও হাঁকিয়েছেন ২টি বিশাল ছক্কা। সাকিবের আউটের পর অধিনায়ক মুশফিকের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে করেন ৮৭ রান সাব্বির। ইংল্যান্ডের দিকে ঢলে পড়া ম্যাচটি যেন হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ইংলিশ স্পিনার গ্যারেথ ব্যাটির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে মুশফিক আউট হয়ে গেলে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তারপর দ্রুত মেহেদী হাসান মিরাজ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি ফিরে গেলে ম্যাচটা খুবই ক্লোজ করে ফেলে ইংল্যান্ড। অভিষিক্ত অলরাউন্ডার মিরাজ বল হাতে যতটা পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে ব্যাট তাকে চেনাই যাচ্ছিল না। দুই ইনিংসেই যেন কাঁপকে কাঁপতে আউট হয়ে গেলেন! তবে অভিষেক ম্যাচে সাব্বির ঠিকই তার সামর্থ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। মাথায় পাহাড় সমান চাপ নিয়েও ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার আদিল রশিদ ও মঈন আলীকে লং অন দিয়ে যে দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তা ছিল দেখার মতো। তারপর ধৈর্য্যের সঙ্গে যেভাবে এক প্রান্ত আগলে রেখে যেভাবে ব্যাটিং করছেন তা সত্যিই অকল্পনীয়। প্রশংসা পেতে পারেন ১০ নম্বরে ব্যাট হাতে নামা তাইজুলও। অষ্টম উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুণ ব্যাটিং করছেন। ১৫ রানের জুটি গড়ে জয়ের আশাও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ সকালে কী হবে বলা কঠিন। এটা ঠিক যে, জয়ের পাল্লাটা ঝুঁকে আছে ইংলিশদের দিকেই।  তবে দীর্ঘ ১৫ মাস পর খেলতে নেমে ইংল্যান্ডের মতো টপ ক্লাস টেস্ট দলের সঙ্গে যে সমান তালে পঞ্চম দিন পর্যন্ত লড়াই করবে সেটাই বা জয়ের চেয়ে কম কিসে! আর যদি জিতেই যায়, সেটা হবে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। একটা বড় প্রতিশোধও নেওয়া হয়ে যাবে। কেননা ২০০০ সালে আইসিসি বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছিল এই ইংল্যান্ড। সেই দলটিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝি দেওয়া যাবে। তবে এখন শুধু ৩৩ রানের অপেক্ষা...!


আপনার মন্তব্য