শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৩৭

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় যাবে

এ কে আজাদ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় যাবে

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এ সফর পৃথিবীর বুকে অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে কীভাবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হয়। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের মানুষ জীবন ও রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছে। সেই দেশ আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো চুক্তি চাপিয়ে দেবে না। আর দিলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তা মেনে নেবেন না। কারণ শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে কারও সঙ্গে কখনো আপস করেননি। এখানেও করবেন না। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যতগুলো অর্জন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার হাত ধরেই এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মধ্য দিয়ে এবার তিস্তা চুক্তিসহ ৫৩টি অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগিতে আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় হবে বলে আমি আশাবাদী। একই সঙ্গে যারা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে ভারত গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ‘ভুলেই’ যান। অন্যদিকে ১০ ট্রাক অস্ত্র এনে ভারতের সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত রাজ্যগুলোয় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে উসকে দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য একে আজাদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা শুধু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাননি, বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মজবুত। তিনি সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবার আমরা তার সফল ভারত সফর চাই। তিনি বলেন,  মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে কেউ উদ্যোগ নেয়নি। কিছুদিন আগে শেখ হাসিনাই তা বাস্তবায়ন করেছেন। তবে এ জন্য ভারতও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কারণ ভারতের সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সে আইন পাস হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের পরিচয়হীন থাকা ছিটমহলবাসী তাদের পরিচয় পেয়েছেন। ভারতের সঙ্গে আমাদের সমুদ্র সীমা ফিরে পেতে কোনো সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। শেখ হাসিনাই আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বন্ধুত্ব সম্পর্ক ঠিক রেখেই ১৯ হাজার স্কয়ার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র উদ্ধার করেছেন। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নানা কথাবার্তা ও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলি, শেখ হাসিনা জাতির পিতার কন্যা। এই দেশটা জাতির পিতার অবদান। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার যে দরদ তা কোনো রাষ্ট্রনায়কের ছিল না। আগামীতেও আসবে না। কাজেই যারা প্রশ্ন করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন—তারা আসলে স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়। বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার শরীরে তিনি দেশ বিরোধী কোনো চুক্তি করবেন না। অন্যদিকে ভারত আমাদের পুরনো বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের  সৈনিকরাও যুদ্ধ করেছেন। জীবন দিয়েছেন। এক কোটি শরণার্থীকে খাইয়েছেন। সেই দেশ আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কর্তৃত্ব নিতে চাইবেও না। এমন কোনো চুক্তি তারা করবে না। একে আজাদ চৌধুরী বলেন, ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিকে গোলামির চুক্তি বলা হতো। কিন্তু সেখানে এমন কিছু পাওয়া যায়নি যে বাংলাদেশের স্বার্থহানি হয়েছে। বরং বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে। এবারও শেখ হাসিনা যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন তা বাংলাদেশই উপকৃত হবে। বিএনপির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় থাকতে ভারত তোষণ করে, আর বিরোধী দলে থাকলে বিরোধিতা করে। অস্ত্র এনে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে উসকে দেয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের মাটি কেউ সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে অনেক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হয়েছে। এরমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার হাত ধরেই অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। তার সুফলও দেশবাসী পাচ্ছে। এসব চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, পাহাড়ের শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে পার্বত্য শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সেখানেও ভারতের বড় ভূমিকা ছিল। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, মটরযান যাত্রী পরিবহন চুক্তি, ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস প্রটোকল, বেনাপোল-পেট্রাপোল রেল ট্রাফিক পুনঃস্থাপন চুক্তি, যাত্রীবাহী রেল সার্ভিস চুক্তি, ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিসের ওপর প্রটোকল, অপরাধ বিষয়ে পরস্পরকে আইনি সহায়তা প্রদানের চুক্তি, সাজাপ্রাপ্ত বন্দীবিনিময় চুক্তি, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সংঘটিত অপরাধ এবং অবৈধ মাদক পাচার মোকাবিলার চুক্তি, সীমান্ত হাট চুক্তি, ১০০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক প্রভৃতি।


আপনার মন্তব্য