শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৪০

গ্যাস-বিদ্যুৎ-ফ্ল্যাটে ভ্যাট প্রত্যাহার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাস-বিদ্যুৎ-ফ্ল্যাটে ভ্যাট প্রত্যাহার করুন

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও ফ্ল্যাটের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআরকে দিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ—ইআরজি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তারমতে, মূল্য সংযোজন কর- মূসক বা ভ্যাট হলো— বিক্রয় কর, যা ভোক্তার ওপর আরোপ করা হয়। গতকাল রাজধানীর সেগুন বাগিচার রাজস্ব ভবনে এনবিআর আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতিসংঘ নীতি প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি ভ্যাট আদায়ে ব্যবসায়ীদের উৎসাহী করতে এবং ভ্যাট আদায়ে কর প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ সার্বজনীন বিষয়ে ভ্যাট তুলে দিতে হবে। কেননা, এটি সবার প্রয়োজন। আর এটি তুলে দিলে সবার ভালো হবে। দিন দিন সার্বজনীন ব্যবহারকৃত বিষয়গুলোর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। নতুন ভ্যাট আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি দাবি করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ভ্যাট আইন সুন্দর হলেও, তা বাস্তবায়িত না হলে কোনো লাভ নেই। ভ্যাট আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং তার যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ভ্যাট দেওয়ার মতো কত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আছে, তার কোনো হিসাব নেই। নিবন্ধিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কত ভ্যাট দিচ্ছে, তারও কোনো হিসাব নেই। কিন্তু আমাদের যদি হিসাব থাকত, তাহলে জানতে পারতাম, বছরে কী পরিমাণ ভ্যাট আদায় হচ্ছে। আসল ভ্যাট ফাঁকিবাজদেরও আমরা ধরতে পারতাম এবং ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হতো। ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ভ্যাট আদায়ের পর সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে কি-না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। ভোক্তার কাছ থেকে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট আদায় করছে। কিন্তু আদায় করা ভ্যাট আসলে কি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে? যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার পরিমাণ কত, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। না হলে ভোক্তারা ভ্যাট দিতে চাইবেন না। তখন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করেও আশানুরূপ কোনো সফলতা আসবে না। এ ছাড়াও কর ফাঁকি বন্ধ করতে হলে সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এক্ষেত্রে এনবিআরকে অবশ্যই যারা কর দিচ্ছেন না, তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে। তাহলে সম্মানের ভয়ে কেউ আর করফাঁকি দেবেন না। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই প্রাক-বাজেট আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান—বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. আনোয়ারা বেগম, পিডব্লিউসি, বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদ, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ—সিপিডি’র গবেষণা ফেলো ড. তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য