শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৪৯

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত ১১ বাংলাদেশিকে

প্রতিদিন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত ১১ বাংলাদেশিকে

অভিবাসননীতি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বসবাস ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ এশিয়ার শতাধিক অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ১১ বাংলাদেশিও রয়েছেন। খবর : নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজের।

জানা গেছে, ১১ বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের বিশেষ বিমান স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাতে দক্ষিণ এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) মিডিয়া দফতর বলছে, এটি প্রচলিত কার্যক্রমেরই একটি অংশ। একদিকে অভিবাসনের আইন লঙ্ঘন, অন্যদিকে নানাবিধ অপকর্মে লিপ্তদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের যে কার্যক্রম চলছে তারই ধারাবাহিকতায় এদের গ্রেফতার করে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ওই ১১ বাংলাদেশিকে গ্রেফতারের পর তাদের মুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদন করেছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান মাজেদা উদ্দিন। এই বাংলাদেশিরা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন না জানিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শুধু গুরুতর অপরাধীদের ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অথচ এই ১১ বাংলাদেশির একজনও কোনো ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না। তাদের অপরাধ একটাই, তারা অভিবাসনের মর্যাদা পাননি। তারা সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা দোকানের বিক্রেতা অথবা ট্যাক্সি চালিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন।’ ফেরত পাঠানো ১১ বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী নাসরীন সুলতানা রয়েছেন। মাজেদা উদ্দিন জানান, ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ডে রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একই রেস্তোরাঁয় কাজ করা তার স্ত্রী বাধা দিতে এসে ফেঁসে গেছেন; কারণ তিনিও অবৈধভাবে এ দেশে বাস করছিলেন। এ দম্পতির তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সবার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে এই শিশুদের কী হবে, তা তুলে ধরে মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দিতে সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।’ এদিকে এই গ্রেফতার অভিযান নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। যদিও যারা কোনো অপরাধে জড়িত নন বা ছিলেন না তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের অভিযানের প্রেক্ষাপটে সবাইকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের পরিচয়পত্র নেই, তারা যেন এমন কিছু সঙ্গে রাখেন যা দিয়ে গ্রেফতার এড়ানো যায়। বিশেষ করে যাদের অভিবাসী মর্যাদার ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ অথবা অন্য কোনো কর্মসূচিতে আবেদন ঝুলে রয়েছে তারা যেন অ্যাটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী চলাচল করেন। এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনের নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক থমাস আর ডেকার বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সে কারণে সব ধরনের অপরাধীকে চিহ্নিত ও গ্রেফতারে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর