শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৬

সরকার চাইলেই সুষ্ঠু ভোট সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার চাইলেই সুষ্ঠু ভোট সম্ভব
আলী ইমাম মজুমদার

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, সরকার চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এটা অসম্ভব কিছু নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের উদাহরণ দেশে রয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) আয়োজিত ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন— সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সি আর আবরার, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, বেলা-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সুজনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার।

১৯৯৬ সালের উদাহরণ তুলে ধরে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলেন। সে সময় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়েছে আবার ওই বছরের জুনের নির্বাচনও হয়েছে। সরকার চেয়েছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে তার কর্মকর্তারা কার্যকর হবেন না— এমন দাবি করে আলী ইমাম বলেন, এখানে একটা বিষয় এসেছে যে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা নিয়োগে পৃথক ক্যাডার পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এর সঙ্গে আমি ভিন্নমত পোষণ করি না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তার কর্মকর্তারা কার্যকর হবেন না। তিনি বলেন, সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আমরা অনেকেই ফিল্ড ট্রায়াল হিসেবে ধরেছিলাম। কিন্তু সেখানে নগ্নভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এক সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র অন্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে গিয়ে মিটিং মিছিল করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এক্ষেত্রে কি কারও দরখাস্তের জন্য নির্বাচন কমিশনকে বসে থাকতে হয়? একটা টেলিফোন যদি জেলা প্রশাসকের কাছে যায়, দুই ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে বের করে দাও, তাহলে কি তা সম্ভব হতো না? সম্ভব হতো। এই কঠোর বার্তা কিন্তু দেওয়া হয়নি। গেছে ভিন্ন বার্তা। আলী ইমাম বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী। যখন কোনো রাস্তা থাকে না, বাঙালি কিন্তু বেরিয়ে আসে। যেমনটা ঘটেছে ৯০-এ, ৯৬-এর ফেব্রুয়ারিতে, ২০০৬-এর শেষ দিকে। বাঙালি বেরিয়ে এসেছিল, তারা বেরিয়ে আসবে। এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমরা সবাই দায়ী। গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার জরুরি। এ জন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। কারণ তারা তা চায় না। দেশে কোনো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই একমাত্র জোরালো দাবি হওয়া উচিত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা হাত তুলে ভোটারদের কাছে নিজেদের ভোটের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন, অন্যদিকে বাকি দল জেলে। এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো আরপিও। বর্তমান ইসি অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলছে। কিন্তু হলফনামা, আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ, এগুলোয় কর্ণপাত নেই। অথচ ইভিএমের ব্যাপারে অতি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। এগুলো আইনকে অস্ত্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা কি না জানি না।


আপনার মন্তব্য