শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৩

মামলা দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে আটক রাখা হয়েছে : খালেদা জিয়া

রায়ের কপি পেয়েছেন আইনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মামলা দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে আটক রাখা হয়েছে : খালেদা জিয়া

মামলা দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে নিজেকে আটক রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় বিচারকের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। বিচারককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে জেলে এবং আমাদের নেতা-কর্মীকে আটকে রেখে আরেক দলকে নির্বাচনের প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে।’ রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতর স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে গতকাল এ মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানিতে হাজির হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরে খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ দুর্নীতি মামলার শুনানি আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির। শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আহমেদ আজম খান খালেদা জিয়ার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাইলে এজলাসের পাশের একটি কক্ষে বসে কথা বলার অনুমতি দেন বিচারক। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হয় এজলাসে। বেলা ১২টার দিকে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হলে শুরুতেই অস্থায়ী এ আদালতের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। বিচারকের উদ্দেশে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের মামলাগুলো এত দ্রুত বিচার হচ্ছে কেন? কেন এত দ্রুত বিচার শেষ করতে চাইছেন? অন্য মামলায় তো এরকম চেষ্টা দেখি না। নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলায়ও এত দ্রুত বিচার হয়নি। বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হচ্ছে না। কিসের জন্য আমাদের মামলা দ্রুত বিচার করা হয়?’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আদালতের ভিতরে মামলা পরিচালনা করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। এজলাস কক্ষ এভাবে পুলিশ দিয়ে কেন আটকে রাখা হয়েছে? এভাবে থাকলে আমি আইনজীবীদের দেখতে পারি না। তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না।’ এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘তাত্ক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। তবে প্রসিকিউটরকে বলছি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।’ বিচারকের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এক দল নির্বাচন করবে আর আমাদের আটক রাখা হবে—এটা তো হতে পারে না। যেহেতু এখন সবাই মাঠে নির্বাচনের কাজ করছে, কেউ আমার জন্য, কেউ তার নিজের জন্য, যেখানে নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যস্ত, সেখানে আমাদের আদালতে আটকে রাখা হয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাদের এসব (নির্বাচনী) কাজ করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে জেলে এবং আমাদের নেতা-কর্মীকে আদালতে আটকে রেখে আরেক দলকে নির্বাচনের প্রচারণার সুযোগ দিয়ে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না। নির্বাচনে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘যদি আমাদের সময় না দেন তাহলে আদেশ দিয়ে বলে  দেন, আমরা নির্বাচন করতে পারব না।’ পরে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ মামলার শুনানি মুলতবি রাখার জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন তিনি।

কাজলকে খালেদার টিপ্পনী : নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীকে নিয়ে টিপ্পনী কাটলেন। শুনানির একপর্যায়ে তার অন্যতম আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রতিপক্ষ দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কাজল সাহেব আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন কিনেছেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়ে এ মামলা পরিচালনার পুরস্কার দেবে আওয়ামী লীগ।’ তার কথা টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘না, তাকে ফুল মন্ত্রী করে দেবে।’ তখন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে দুদকের আইনজীবী কাজল বলেন, ‘ম্যাডাম, আমার জন্য দোয়া করবেন।’

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়ের কপি পেয়েছেন আইনজীবীরা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গতকাল বিকালে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত থেকে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি বুঝে নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। পরে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, ‘বিচারিক আদালত থেকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফায়েড কপি আমরা হাতে পেয়েছি। এখন দ্রুততম সময়ে আপিলের প্রস্তুতি নেব।’

এর আগে ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একইসঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী, তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে একই দণ্ড দেয় আদালত। রায়ে চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে থাকা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি।


আপনার মন্তব্য