শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৩

জয়ের প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ

মেজবাহ্-উল-হক

জয়ের প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ

সংগীতের সঙ্গে দারুণ মিল টেস্ট ক্রিকেটের। কথা যত চমৎকারই হোক না কেন তাল, লয়, ছন্দ ঠিক না থাকলে সূরের মূর্ছনা সৃষ্টি হয় না। গানকে আর গানের মতো মনে হয় না। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের অপূর্ব সমন্বয় না হলে সংগীতের মতো টেস্ট ম্যাচও যে ছন্দময় হয় না। ম্যাচ জেতাও কঠিন হয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ দল দারুণ ব্যাটিং করেছে। বোলিংও চমৎকার হচ্ছে। কিন্তু ফিল্ডিং যাচ্ছেতাই। একের পর এক ক্যাচ মিসের কারণেই কিনা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সহজ ম্যাচটা কঠিন হয়ে গেল। তবে ম্যাচ এখনো টাইগারদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। জয়ের জন্য আজ দরকার আরও ৮ উইকেট। জিম্বাবুয়ের দরকার আরও ৩৬৭ রান। দুই দুটি ক্যাচ মিস না হলে গতকালই ব্যাটফুটে চলে যেত সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের দুই দুটি ক্যাচই মিস করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একবার প্রথম স্লিপে, আরেকবার গালিতে। প্রথম ইনিংসেও বাংলাদেশ মোট চারবার আউটের সুযোগ নষ্ট করেছিল। গতকাল দুই ওপেনার দলীয় ৩ এবং ১২ রানে নতুন জীবন পাওয়ার পর গড়েছেন ৬৮ রানের জুটি। দিন শেষে জিম্বাবুয়ের করেছে ৭৬ রান। তবে জিততে হলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে হবে সফরকারীদের। কেন না টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে শেষ ইনিংসে তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৪১৮ রানের। এই রেকর্ডটাও ২০০৩ সালের, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর উপমহাদেশের চতুর্থ ইনিংসে তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৩৮৮ রানের। গত বছর এই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে জিতেছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। আর কাল জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশ টার্গেট দিয়েছে ৪৪৩ রানের। শেষ দিনে যেকোনো উইকেটেই ব্যাটিং করা কঠিন। সে কারণেই কাল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে টাইগারদের লিড ছিল ২১৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত সেঞ্চুরি এবং মোহাম্মদ মিথুনের হাফ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

 আজ জিম্বাবুয়ের দরকার আরও ৩৬৭ রান। তবে জয়ের চিন্তা না করে ড্র-র লক্ষ্যেই ব্যাট করবে সফরকারীরা। সেক্ষেত্রে ব্যাটিং করতে হবে সারা দিন। তবে আজ প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে কিংবা মিরাকল কিছু না ঘটাতে পারলে আট উইকেট ?দিয়ে শেষ দিন পার করে দেওয়া অসম্ভব!  সেদিক থেকে নিরাপদে স্বাগতিকরা। হারের শঙ্কা নেই। বরং জয়ের জন্য প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।


আপনার মন্তব্য