Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৪

ভোটের হাওয়া

তথ্যমন্ত্রীর বাড়ি নেই, হানিফের সম্পদ বেড়েছে তিনগুণ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

তথ্যমন্ত্রীর বাড়ি নেই, হানিফের সম্পদ বেড়েছে তিনগুণ

কুষ্টিয়ায় দুই হেভিওয়েট প্রার্থী জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের আয় ও সম্পদ গত দশ বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা রিটার্নিং কার্যালয় ও সহকারী রিটার্নিং কার্যালয়ে মনোনয়নের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ হলফনামা অনুযায়ী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নিজের নামে কোনো বাড়ি নেই, আর মাহবুব-উল আলম হানিফের স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই। কুষ্টিয়া-২ ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পেশায় রাজনৈতিক কর্মী ও প্রকৌশলী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার আয়ের বড় অংশ আসে ব্যবসা, বেতন-ভাতা, ব্যাংকের লভ্যাংশ ও টিভি টকশো থেকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় ইনুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শম কম্পিউটার্স লিমিটেড থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৪৪ হাজার ১২৯ টাকা। বেতন-ভাতা থেকে ইনুর আয় ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৮০ টাকা। টিভি টকশো ও ব্যাংক সুদ থেকে পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৪ টাকা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৫ বছরে ইনুর আয় অনেকটা বেড়েছে। পাশাপাশি এই নেতা ও তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। বর্তমানে ইনুর নগদ আছে ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৬ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমাণ ৪৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৮০ টাকা। শেয়ার ও পোস্ট অফিস মিলিয়ে আছে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে নবম সংসদ নির্বাচনে ইনুর নামে নগদ ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা ও সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সে তুলনায় নগদ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। নবম সংসদ নির্বাচনের সময় তার নামে ব্যাংকে ৮ হাজার ৮১ টাকা ও দশম সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ৮০ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ ছাড়া বন্ড শেয়ারসহ অন্যান্য দিয়ে অর্থের পরিমাণ নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এদিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যে দেখা যায় তার সম্পদের পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে হানিফের সম্পদের পরিমাণ ২৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৮ টাকা। যা দশম সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় দেখানো হয় ৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৪ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় হানিফের ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ৩৩ হাজার ২৯১ টাকা। তবে তিনি কী ব্যবসা করেন তা উল্লেখ করা হয়নি। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে আয় ৭ লাখ ৭৬ হাজার ১৬০ টাকা। এমপি ভাতা থেকে পান ৬ লাখ ৬০ হাজার ও অন্যান্য খাত থেকে ৮ হাজার ৪৪৯ টাকা। হানিফের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ আছে ৭২ লাখ ৭১ হাজার ১৩৯ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩ টাকা। বন্ড, শেয়ারসহ অন্যান্য খাতে আছে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৬ হাজার ৪০০ টাকা। হানিফের তিনটি গাড়ি আছে যার মূল্য ১ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমি আছে ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ টাকার। ঢাকার নয়াপল্টনে একটি বাড়ি আছে যার মূল্য ৮ লাখ টাকা, গাজীপুরে ৩ একর জমি যার মূল্য ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া গুলশানে ৫ কাঠা ৯ ছটাক জমি আছে যার মূল্য ৩ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ১৮০ টাকা। চৌড়হাসে ১২ শতাংশ জমিসহ দালানের মূল্য ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় হানিফের বার্ষিক আয় দেখানো হয় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, দোকান ভাড়া থেকে আয় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টাকা। মৎস্য ব্যবসা থেকে আয় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া চাকরি থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় দেখানো হয়। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হানিফের নামে নগদ ছিল ৪৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৪ টাকা। হানিফের নামে ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থের পরিমাণ ছিল ৮১ হাজার ৪৭৪ টাকা। তবে তার স্ত্রীর নামে দেখানো হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫১ টাকা। হানিফের নিজ নামে শেয়ার ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ২৫ টাকা ও বন্ড ২০ লাখ টাকা মূল্যের। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে শেয়ার ছিল ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় স্ত্রীর নামে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৬৪ লাখ ২৫ হাজার ৯১৭ টাকার সম্পদ দেখানো হলেও এবার হলফনামায় হানিফের স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ ও অর্থ দেখানো হয়নি। গত বছর ব্যাংকে দেনা দেখানো হলেও এবার কোনো দেনার কথা হলফনামায় পাওয়া যায়নি।


আপনার মন্তব্য