শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩০

চালকের আসনে শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চালকের আসনে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ বিমানে যুক্ত হওয়া দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘হংসবলাকা’ পরিদর্শনে গিয়ে চালকের আসনে বসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মিত হাসিতে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে মনে হলো তিনিই পাইলট। ‘হংসবলাকা’র এই প্রতীকী পাইলট গোটা দেশকেই যেন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে। বঙ্গবন্ধুর  সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ যেন তাঁর এক বিরামহীন পথ চলা। লক্ষ্য যত দূরেই হোক অর্জনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে এই পাইলটের চোখেমুখে। গতকাল দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের টারমার্কে জাতীয় পতাকাবাহী বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭১ আসনের এ উড়োজাহাজটিতে উঠে ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। এক পর্যায়ে বিমানের ককপিটে পাইলটের আসনে বসেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানটির হংসবলাকার নামকরণও করেছেন তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে দিন বদলের যে সনদ ঘোষণা করেছিল তার কাঙ্ক্ষিত সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই দশ বছরে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়নসহ আর্থসামাজিক সব খাতে বাংলাদেশ অর্জন করেছে বিস্ময়কর অগ্রগতি। ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’। ২১০০ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে তা এই পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এক উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবনের স্বাদ পাবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে সেটির অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে এ পরিকল্পনায়। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করবে হংসবলাকা। রেজিস্ট্রেশন ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সব প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে এটি প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল শুরু করবে। উড়োজাহাজটির ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান  জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)। এর শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে  শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমের মাধ্যমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই উড়োজাহাজটি ওজনে হালকা। ভূমি থেকে উড়োজাহাজটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে  টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে। হংসবলাকা দিয়ে লন্ডন, দাম্মাম ও ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম উড়োজাহাজটি চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় শতকরা ২০ ভাগ কম জ্বালানি খরচ হবে। ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারবে। এর আসন রয়েছে ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে বিশ্রাম নিতে পারবেন। বিমানের দুই পাশের প্রত্যেক আসনের পাশে রয়েছে বড় আকারের জানালা। একসঙ্গে জানালার শাটার বন্ধ করা ও খোলা যাবে  বোতাম টিপে। জানালা থেকে শুরু করে কেবিনেও রয়েছে মুড লাইট সিস্টেম। ফলে যাত্রীরা সহজেই পরিবর্তন করতে পারবেন লাইটিং মুড। দীর্ঘ সময় ভ্রমণেও যাত্রীরা যেন ক্লান্তি অনুভব না করেন সেজন্য এয়ার কমপ্রেসর সিস্টেম অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় উন্নত।


আপনার মন্তব্য