Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩২

ষষ্ঠ দিনেও রাস্তায় শ্রমিকরা, সংঘর্ষ সাত মামলা

বিজিবি মোতায়েন, ৪৫ কারখানায় ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার প্রতিনিধি

ষষ্ঠ দিনেও রাস্তায় শ্রমিকরা, সংঘর্ষ সাত মামলা
মজুরি কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করার দাবিতে রাজধানীতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় গতকালও শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর ও জিরাবো-কাঠগড়া এলাকার ৪৫টি কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে এবং অন্তত ২০টি যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে বেলা পৌনে ১১টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রীসহ অন্তত ৪০ জন শ্রমিক আহত হন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ৪৫টি কারখানায় শনিবার (গতকাল) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে কারখানায় দুই শ্রমিকের ওপর মারধরের প্রতিবাদে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় এবং এশিয়া সিনেমা হলের সামনে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। একপর্যায়ে বাঙ্্লা কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, সরকার-নির্ধারিত মজুরি কাঠামোয় বৈষম্যের কারণ দেখিয়ে ষষ্ঠ দিনের মতো গতকাল ডিউটি শুরুর কিছু সময় পরই ৩৫টি কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আসে। এ সময় তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর ও কাঠগড়া-জিরাবো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা মহাসড়কে চলমান যাত্রীবাহী বাসসহ প্রায় ২০টি যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। উভয় পক্ষে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পাঁচজন শ্রমিক আহত হন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ওই এলাকায় ফের যান চলাচল শুরু হয়। প্রায় একই সময়ে সাভারের উলাইল এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে এইচআর গ্রুপের শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আশুলিয়ায় জামগড়া বেরুন এলাকায় বেলা পৌনে ১টার দিকে নেকস্ট কালেকশন কারখানার শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যকার সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মহাসড়কগুলোতে পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি পৌঁছলে শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হন। আশুলিয়ার শিল্প পুলিশের পরিচালক সানা সামিনুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আশুলিয়া, জামগড়া এলাকাসহ আশপাশের ৪৫টি কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে যানবাহনে ভাঙচুর ও অবরোধ করে রাখে। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে জলকামান নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি জানান। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ওই সব কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় যারা কারখানায় ভাঙচুর করবে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরাল ছাত্রলীগ : দ্য ফাইনারি গার্মেন্ট ও অ্যাপারেলস এক্সপোর্ট লিমিটেডে দুই শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখলেও সেখানে মালিক সংগঠন কিংবা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা ছিল না। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাঙ্্লা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি নাছির নঈম মুহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম, সহ-সম্পাদক লাবু, সদস্য মানিক চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতা সড়কে অবস্থান নিতে যান। ছাত্রলীগের নেতারা পোশাক শ্রমিকদের মুখোমুখি হওয়ার পর ধাক্কাধাক্কিও হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতারা শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। বেলা দেড়টার দিকে যান চলাচল শুরু হয়।

গার্মেন্টে ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত পাঁচজন গ্রেফতার : গাজীপুরের টঙ্গীতে গার্মেন্টে ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন- শামীম, রোমান, আলমগীর হোসেন, আবু সাঈদ ও সোহেল সরকার। শুক্রবার রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার-বিন-কাশেম জানান, গত বুধবার টঙ্গীতে গার্মেন্টের মজুরি কাঠামো নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করে। এ সময় পেটরিয়ট, জিন্স অ্যান্ড পলো, গ্লোড স্টার, রেডিসন-১, নর্দান, সুমিসহ ৯টি গার্মেন্টে ব্যাপক ভাঙচুর ও সহিংসতা চালানো হয়। ওই ঘটনার তদন্তে  দেখা যায় শ্রমিক নামধারী কিছু সন্ত্রাসী সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। র‌্যাব এসব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে। শুক্রবার টঙ্গী থেকে ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত সন্ত্রাসীদের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, অর্থনীতির চালিকাশক্তি গার্মেন্ট সেক্টরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় অর্ধ কোটি শ্রমিকের স্বার্থে ওই সেক্টরে অরাজকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড  রোধে তৎপর র‌্যাব। এক্ষেত্রে যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আপনার মন্তব্য