শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪২

নির্যাতিতরাই নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বছরের ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় শামসুন্নাহার হলের সামনে চা পান করছিলেন সেই হলের আবাসিক ছাত্রী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেখ তাসনিম হোসেন ইমি। এ সময় ডিবি পরিচয়ে এক নারী ইমির কাছে এসে বলেন, ‘আপনি একটু সামনে আসুন। স্যার আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি ইমিকে পাশে দাঁড়ানো একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসের কাছে নিয়ে যান। এরপর তাকে ওই মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাহেব আলীকে পাশে দেখা গেলেও পরে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন স্লোগান-’৭১-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামালপুরের মেয়ে ইমি কোটা সংস্কারের পক্ষে স্লোগান দিতেন। সোচ্চার হয়েছিলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও। পরে জানা যায়, গুজব রটানোর অভিযোগ তুলে ইমিকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে গভীর রাতে ছেড়ে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। সেই ইমি এবার শামসুন্নাহার হলের হল সংসদে স্বতন্ত্র হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হওয়া নুরুল হক নুর এখন ডাকসুর সভাপতি। শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলন নয়, পরবর্তী সময়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনেও সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন নুর। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে তুলে ধরেন দেশবাসীর কাছে। কোটা আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে যুক্ত করেন। এই দুটি আন্দোলন নুরকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে। তবে কমপক্ষে পাঁচবার নির্যাতিত হয়েছেন ছাত্রলীগের হাতে এবং দুই দফায় নির্যাতনের শিকার হন পুলিশের হাতে। কিন্তু এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে নুরুল হকের। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা যেখানে নিজ দলের লেজুড়বৃত্তি করে, সেখানে নুর শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করেন। এটিই অন্যদের চেয়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

সবশেষ সোমবার ডাকসু নির্বাচন চলাকালে নির্বাচনে রোকেয়া হলকেন্দ্রে ভোটের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়ে সংজ্ঞা হারান নুর। তারপরও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে তাকেই নেতা নির্বাচিত করেছেন। হাসপাতালের বেডে শুয়েই ভিপি পদে জয়ের খবর পান নুর।


আপনার মন্তব্য