Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৮

সাত লাখ কোটি টাকার বেশি কালো

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাত লাখ কোটি টাকার বেশি কালো

দেশের পুঁজিবাজার ও অর্থবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। তিনি বলেন, দেশে ৫ থেকে ৭ লাখ কোটির বেশি কালো টাকা আছে। আগামী বাজেটে কালো টাকা উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হোক। এক্ষেত্রে এমন কোনো পথ-পদ্ধতি অবলম্ব^ন করা উচিত হবে না, যার ফলে সৎ ব্যক্তিরা অসৎ হতে প্রণোদিত হতে পারেন। মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে কালো টাকা সংশ্লিষ্ট ‘সিজর ইফেক্ট’ কীভাবে সমাধান করা যায় সেটাও বাজেটে থাকা জরুরি। গতকাল সেগুনবাগিচার রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি-বিইএর সভাপতি ড. আবুল বারকাত। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, কানন কুমার রায়সহ পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সভায় অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাব তুলে ধরে ড. আবুল বারকাত বলেন, বর্তমানে দেশে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি কালো টাকা আছে। যা সরকারের দুটি অর্থবছরের বাজেটের সমান। তার মতে, সব কালো টাকা উদ্ধার করে, একসঙ্গে অর্থনীতির মূলস্র্রোতে আনা সম্ভব নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, কালো টাকা কীভাবে অর্থনীতিতে আনা যায়, বাজেটে তার একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। প্রতি বছর যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, তা রোধ করতে বাজেটে সুস্পষ্ট উদ্যোগ চাই। এর সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে বাজেটে পদক্ষেপ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মানি চেঞ্জার কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হোক। পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, পুঁজিবাজারের সমস্যা শুধু সরবরাহ ঘাটতিই নয়, চাহিদা স্বল্পতাও। পুঁজিবাজার ও অর্থবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব আছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে সরকারি ও করপোরেট বন্ড মার্কেট-এর ফলপ্রদ বিকাশের কথা ভাবা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ ও গভীরতা বৃদ্ধির বিষয়সহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে প্রণোদনার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অর্থনীতি সমিতি সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের পক্ষে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি যেন গণমানুষের বহুমুখী বৈষম্য হ্রাসে কাজ করে-আমরা তার পক্ষে। তারুণ্যের শক্তিকে প্রকৃত সম্পদে রূপান্তর করার পক্ষে; আমরা মানবসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে চাই। জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ আলোকিত মানুষ সৃষ্টির পক্ষে। কর্মসংস্থানবিমুখ প্রবৃদ্ধির পক্ষে নই। আমরা বৈশ্বিক অর্থনীতির সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ নেওয়ার পক্ষে (অর্থাৎ গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে আমাদের হিস্যা বাড়ানোর পক্ষে)। বঙ্গবন্ধুর চেতনার ‘দেশজ উন্নয়ন দর্শনের’ পক্ষে অর্থনীতি সমিতি। অর্থনীতি সমিতি বলেছে, বাজেটে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা মোট ২২টি নতুন উৎস নির্দেশ করেছি। সরকারি আয় বৃদ্ধির নতুন এসব উৎসের মধ্যে থাকবে অর্থ পাচার রোধ থেকে আহরণ, কালো টাকা উদ্ধার থেকে আহরণ, বিদেশি নাগরিকদের ওপর কর, বন্ড মার্কেট, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব, সেবা থেকে প্রাপ্তি কর, সম্পদ কর, বিমান পরিবহন ও ভ্রমণকর, তার ও টেলিফোন বোর্ড, টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি কমিশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিআইডব্লিউটিএ, বেসরকারি হাসপাতাল অনুমতি নবায়ন ফিস্, সরকারি স্টেশনারি বিক্রয়, পৌর হোল্ডিং কর ইত্যাদি।


আপনার মন্তব্য