শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৫৭

নুসরাতের হত্যাকারীদের ছাড় নয় : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে যারা পুড়িয়ে মেরেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে হবে। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। বাকিদেরও ধরা হবে। কেউ ছাড় পাবে না। তাদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার সংস্কৃতি পাকিস্তানি ও বিএনপি-জামায়াতের। অদম্য অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। শেখ হাসিনা গতকাল বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বক্তৃতা করছিলেন। তিনি বলেন, নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমরা মেয়েটিকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। দুঃখজনক যে, মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। যারা বোরকা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। তবে তার শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার মতো ছিল না। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এখানে চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য মেয়েটিকে বাঁচানো গেল না। বিনা কারণে মেয়েটিকে হত্যা করা হলো। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়ব না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতেই হবে। নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষ আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলে উদযাপন করি। এটি বাঙালির বড় উৎসব। এটিকে আনন্দঘন করতে আমি ভাতারও ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসসহ আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। আমরা এগুলো কঠোর হস্তে দমন করেছি। আর কিছু সামাজিক সমস্যা আছে সমাধানের চেষ্টা করছি। শেখ হাসিনা বলেন, আগুনের এ ঘটনার শুরুটা কারা করেছিল? ২০১৩ সালে নির্বাচন প  করার নামে যারা জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাস করেছে তারা। কিন্তু তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। আবার ২০১৫ সালে সরকারকে উৎখাত করার নামে সারা দেশে অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করে। এই দেশে এমন বীভৎস ঘটনা সেই পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী যখন দেশের মানুষের ওপর হামলা শুরু করে তখন তারা বস্তিতে আগুন দিত। আগুন দেওয়ার পর মানুষ যখন ঘর থেকে বেরিয়ে এলো তখনই তারা তাদের গুলি করে হত্যা করে। এভাবে তারা বহু মানুষ হত্যা করেছে। বিএনপির আমলেও এই রকম ঘটনা ঘটেছে। একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ২০-দলীয় জোট করেছে। সেই ২০ দলে আছে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত। এই বিএনপি-জামায়াত জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। এ ছাড়াও বাসে, ট্রেনে, ট্রলারে আগুন দিয়েও মানুষ পুড়িয়েছে। এই যে যেখানে সেখানে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এই পথটা তো বিএনপিই দেখিয়ে গেছে। এগুলো প্রতিহত করতে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া দরকার। ভবনে আগুন লেগে গেলে করণীয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যে আগুন লাগছে এটার প্রতিকার করতে গেলে যাদের ভবন তাদের একটা দায়িত্ব আছে। যারা ভবন ব্যবহার করে তাদের জানা থাকা দরকার অগ্নিকা  ঘটলে কীভাবে ওই ভবন থেকে বের হবে।

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও তাদের থাকা উচিত। আমাদের দেশে একটা প্রচলন আছে, কোনো কিছু হলেই তা সরকার সমাধান করে দেবে। সরকার তো সরকারের কাজ করবেই কিন্তু সবার নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা উচিত। যারা প্ল্যান করেন, যারা আর্কিটেক্ট, যারা অনুমোদন দেন তাদেরও দায়িত্ব আছে। তারা যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। আমাদের সব কিছু প্ল্যান করে ডিজাইন করা উচিত। এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব না এ মানসিকতা থাকা উচিত না। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কারণে ফায়ার এক্সিট নেই- এটা কেমন কথা। যারা ভবন ব্যবহার করেন তারা তো শিক্ষিত মানুষ তাদের মধ্যে তো সচেতনতাবোধ থাকা উচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, বনানীর যে ভবনে আগুন লাগল দেখা গেছে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা কাজ করার জন্য যে একটা জায়গায় দাঁড়াবে সেই ব্যালকনি পর্যন্ত নেই। এরকম অপরিকল্পিত ভবনে আগুন নেভানোর কাজে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী সোহেল মারা গেলেন। আমি চেষ্টা করেছিলাম, চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলাম। তবুও তাকে বাঁচানো গেল না।

বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আবদুল খালেদ, প্রফেসর হামিদা বানু, মুকুল বোস, অ্যাম্বাসেডর জমির, মশিউর রহমান, মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ অন্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে মন্দা ছিল। বর্তমানে আমাদের দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী। দুর্বার গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবে; এই এগিয়ে যাওয়া কেউ প্রতিহত করতে পারবে না। জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল কিন্তু বর্তমান সরকার তা মোকাবিলা করে দেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত করেছে। আমাদের দেশের নানা সামাজিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সব সমস্যায় যারা ভোগে তাদের বেশিরভাগই নিম্নবর্গের মানুষ।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক লেখালেখির বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর কোনো ধরনের নাটক নির্মাণ, লেখালেখি বা ক্রীড়ানুষ্ঠান-টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে উপদেষ্টাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান : যার যার অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের উপদেষ্টাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বলেন, দেশের ও দেশের বাইরে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে অনেক ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। আমরা দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালন করব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী এসব বিকৃত ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এ জন্য লেখনী, প্রকাশনা, টকশোতে ব্যাপক আলোচনা রাখতে হবে। 

শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে জাতীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রণয়নে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা কার্যালয়ও খোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগও দলীয়ভাবে এবং সব সহযোগী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সর্ব স্তরে ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করবে। এ জন্য আপনাদের সবাইকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কর্মসূচি সফল করতে এগিয়ে আসতে হবে। 

বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দলের উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, হামিদা বানু ও মকবুল হোসেন প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য