Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৬

বৈঠক করে পুড়িয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত

নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ সিরাজ, জড়িত ১৩, সরাসরি অংশ নেওয়া শামীমসহ গ্রেফতার ৭, নুসরাতের কাল হয়েছে প্রেম প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈঠক করে পুড়িয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত

অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশেই ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। নুসরাতের গায়ে সরাসরি আগুন দেওয়া চারজনের মধ্যে দুজন ছিল মেয়ে। তাদের মধ্যে একজন ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম। মিশন শেষ করে আগুন দিয়ে মাদ্রাসার মূল গেট দিয়েই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এজাহারভুক্ত সাতজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা আমরা পেয়েছি। নুসরাতের গায়ে সরাসরি আগুন দেওয়া চারজনের মধ্যে এক নারীসহ দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে। এই দুজনের একজন শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই বলছে, গ্রেফতারকৃত সাতজন হলো- সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৫), মাদ্রসার ছাত্র নূর উদ্দিন (২০) ও শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম (৪৫), জোবায়ের আহম্মেদ (২০), জাবেদ হোসেন (১৯) এবং আফসার উদ্দিন (৩৫)। পুরো ঘটনায় দুই নারীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে পিবিআই। ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, গত ৪ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের। দেখা করার পর সিরাজের নির্দেশে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন মাদ্রাসার পশ্চিম হোস্টেলে দুই নারীসহ পাঁচজন কীভাবে হত্যা করা হবে এ নিয়ে মিটিং করে। শামীম নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার প্রস্তাব দেয়। তিনি আরও বলেন, ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই ওই মাদ্রাসায় লুকিয়ে ছিল হত্যাকারীরা। সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে দুটি টয়লেটে লুকিয়ে ছিল তারা। চার হত্যাকারীর মধ্যে থাকা একটি মেয়ে বাকি তিনজনকে বোরকা ও কেরোসিন এনে দেয়। আর চম্পা নামের একটি মেয়ে (পঞ্চম জন) পরীক্ষার হলে গিয়ে নুসরাতকে বলে তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। এই কথা শুনে নুসরাত দৌড়ে ছাদে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই বলছে, দুই কারণে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করে নুসরাত আলেম সমাজকে হেয় করেছে বলে মনে করে তারা। আরেকটি কারণ হলো শামীম দীর্ঘদিন ধরে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তবে নুসরাত তা বারবারই প্রত্যাখ্যান করছিল।


আপনার মন্তব্য