Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০১৯ ২২:৪৪

তিন নাগরিক সেবা নিয়ে শঙ্কা

জিন্নাতুন নূর

তিন নাগরিক সেবা নিয়ে শঙ্কা

রোজায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি- এই তিন নাগরিক সেবাপ্রাপ্তি নিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে শহরের বেশকিছু এলাকা এবং গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের জন্য ভোগান্তি হচ্ছে। অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না হওয়া এবং রোজায় সাহরি ও ইফতারি বানাতে আবাসিকে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাড়তি গ্যাসপ্রাপ্তি নিয়ে এরই মধ্যে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় সৃষ্ট পানির সংকট দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই দিচ্ছে না ওয়াসার গ্রাহকদেরও। এ অবস্থায় রোজা শুরুর আগেই রাজধানীবাসী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সেবাপ্রাপ্তি নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে রোজায় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে, দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে গ্যাস ও কয়লার স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর বাইরে ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪১০ মেগাওয়াট আর বড়পুকুরিয়া ইউনিট-১-এর ওভার হোলিংয়ের জন্য ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোয় কমবেশি লোডশেডিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। আবার ঢাকায়ও অনেক এলাকায় বিগত কয়েকদিন গ্রাহকদের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে দেখা যায়। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তা বে খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর ও বরগুনায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়ে এবং তার ছিঁড়ে গিয়েও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে রোজায় নিরবচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক সেবাপ্রাপ্তি নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সাংবাদিকদের এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় জানান, রোজায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এজন্য সে সময় বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি পাম্প বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে ইফতার ও সাহরির সময় লোডশেডিং না করতে বলা হয়েছে। আর কোনো এলাকায় লোডশেডিং করতে হলে গ্রাহকদের আগেই জানাতে বলা হয়েছে। রোজায় আবাসিকের গ্যাস গ্রাহকরাও বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে মিরপুর, পুরান ঢাকা, রামপুরা, আশকোনা, মোহাম্মদপুরের গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ কম বলে অভিযোগ করেছেন। রোজায় সাধারণ সময়ের তুলনায় ইফতারি ও সাহরির জন্য রান্না বেশি হয় বলে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। পল্লবীর গৃহিণী শাহিদা আক্তার জানান, দিনে গ্যাসের যে চাপ থাকে তা দিয়ে দুই বেলার খাবার রান্না করতেই হিমশিম খেতে হয়। ইফতার ও সাহরির জন্য বাড়তি রান্না কীভাবে করবেন তা নিয়েই এখন এই গৃহিণী চিন্তিত। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের গ্যাসের লোড এখন ভালো। বিশেষ করে এলএনজির সরবরাহের পর অবস্থা ভালো হয়েছে। তবে রোজায় যদি কোনো এলাকায় গ্যাসের সংকট দেখা যায় তাহলে আমাদের জরুরি টিম গিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করবে।’

ঢাকা ওয়াসাও এবার রোজায় গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছে বলে দাবি করছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসা ভ্যানে করে পানি সরবরাহ ও পানির পাম্প তদারকি করে গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান জানান, ওয়াসা রোজার জন্য আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি আশা করছেন রোজায় গ্রাহকদের তেমন ভোগান্তি হবে না। যদিও ঢাকার অনেক এলাকাতেই বিশেষ করে পুরান ঢাকায় পানিস্বল্পতার সমস্যাটি বেশ প্রকট। রোজায় পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য