শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ মে, ২০১৯ ২২:৫১

গুলিস্তানে হঠাৎ হকারদের অবরোধে ব্যাপক দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলিস্তানে হঠাৎ হকারদের অবরোধে ব্যাপক দুর্ভোগ

রাজধানীর ব্যস্ততম গুলিস্তানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হকাররা। হলিডে মার্কেট নয়, ফুটপাথে বসার দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেন। গতকাল বিক্ষোভের ফলে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ফলে রোজার প্রথম দিনেই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। পুলিশ জানায়, সকাল থেকে হকাররা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা গোলাপশাহ মাজারের সামনে নর্থ সাউথ রোড বন্ধ করে দেন। বেলা ১টার দিকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনের সড়কও তারা অবরোধ করেন। এতে পল্টন থেকে ফুলবাড়িয়া হয়ে সদরঘাট, গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জানা গেছে, জিরো পয়েন্ট থেকে সচিবালয়মুখী আবদুল গনি রোডের মুুুুখে হকাররা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশনের বড় বড় পাইপ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এতে সদরঘাট, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে শত শত যানবাহন। পুলিশ কয়েক দফায় বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা জানান, ‘কিছুদিন আগে ট্রাফিক সপ্তাহের নামে আমাদেরকে ফুটপাথ থেকে তুলে দেয় পুলিশ। তখন বলেছিল ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হলে আবার বসতে দেবে। কিন্তু এখন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আমরা শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট খুলে বসতে পারব। কিন্তু আমরা ফুটপাথে বসতে চাই, এখানেই ব্যবসা করতে চাই। পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত ফুটপাথে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাই।’ বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাসিম কবির জানান, গত ৫ মে আমরা ডিএসসিসি মেয়রের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত আমাদের ফুটপাথে বসার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আজ (গতকাল) আমাদেরকে তার অফিসে যেতে বলেছিলেন। আমরা গিয়েছি। কিন্তু তার দেখা পাইনি। এজন্য হকাররা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। ডিএমপির মতিঝিল ট্রাফিক জোনের এসি এস এম বজলুর রশিদ জানান, হকারদের যদি কোনো দাবি থাকে তাহলে সেটি তারা ডিএমপি অথবা সিটি করপোরেশন বরাবর জানাতে পারে। এভাবে রোজার মাসে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল রাজধানীতে ১১টি হলিডে মার্কেট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় ডিএমপি। পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব মার্কেট চালু থাকবে। ঈদুল ফিতরের পর এসব মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।


আপনার মন্তব্য